বিএনপি অফিস সুনসান|114229|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বিএনপি অফিস সুনসান
রেজাউল করিম লাবলু

বিএনপি অফিস সুনসান

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গতকাল রবিবার দিনভর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল নিরুত্তাপ। নেতাকর্মীদের খুব একটা আনাগোনা ছিল না কার্যালয়ে। কার্যালয়ের সামনে দিয়ে কিছু নেতাকর্মী গেলেও তাদের কার্যালয়মুখী হতে দেখা যায়নি। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এতটা নিরুত্তাপ দেখা যায়নি। এদিন সারা দেশ থেকে বিএনপিদলীয় প্রার্থীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফোন করে এলাকার সার্বিক অবস্থা জানিয়েছে। কোনো কোনো প্রার্থী ফোন করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ না থাকার উল্লেখ করে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে রিজভী বরাবরই দলের দায়িত্বশীল বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে তাদের সান্তনা দিয়েছেন।

সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় রিজভী আহমেদ দপ্তরে তার নির্ধারিত আসনে বসে আছেন। বিভিন্ন এলাকার নেতারা তাকে ফোন করে এলাকার পরিস্থিতি জানাচ্ছিলেন। কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়া নজরদারি করতে দেখা গেছে। কার্যালয়ের বিপরীতেও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে। এদিকে নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান জানতে সকাল থেকেই কার্যালয়ে ভিড় করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। তাদের কার্যালয়ের বাইরে থেকে কার্যালয়ের সামনের পরিস্থিতি তুলে ধরতে দেখা গেছে। 

২৯ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এত সুনসান দেখা যায়নি। যেমনটা সেখানে দেখা গেছে গতকাল। একই অবস্থা ছিল পুরানা পল্টনে জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী অফিসেও। সেখানে বিদ্যুৎ লাইন ঠিক না থাকায় ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে বসে নির্বাচনের খোঁজখবর নিতে পারেননি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ও ছিল নিরুত্তাপ। 

দোতলায় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদ দলের কয়েক নেতাকে নিয়ে সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের সর্বশেষ খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। অভিযোগের বিষয় লিপিবদ্ধ করছিলেন। এসব অভিযোগ একত্র করে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দুপুরে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে পাঠানো হয়েছিল প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয় জানাতে। 

এদিকে সারা দেশের ভোটের চিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোথাও ভোট হচ্ছে না। ভোটের নামে প্রহসন হচ্ছে। গত শনিবার রাত থেকেই সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সহযোগিতায় জালভোট দিয়ে বাক্স ভরেছে। সকালে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়েছে। 

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশ থেকে ধানের শীষের প্রার্থীরা দফায় দফায় ফোন করে এলাকায় সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ না থাকার কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দপ্তরে বসে তারা বিভিন্ন প্রার্থীদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তর সংশ্লিষ্ট এক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, সুদূর মালয়েশিয়া থেকে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী শামীম আরা বেগমের স্বামী ও মহানগর বিএনপি নেতা এমএ কাইয়ুম মোবাইলে ফোন করেছিলেন রিজভী আহমেদের কাছে। রিজভীকে ফোন করে শামীম আরা বেগমের ভোট বর্জনের কথা জানান। একইভাবে ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থসহ অনেকেই তাদের ভোট বর্জনের কথা রিজভীকে জানিয়েছেন।