৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানবপ্রাচীর|114697|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানবপ্রাচীর
রূপান্তর ডেস্ক

৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানবপ্রাচীর

ভারতের কেরালা রাজ্যে প্রবল বিক্ষোভের মধ্যেই গতকাল বুধবার দুই নারী সাবরিমালা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। নারী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে দেশটির ডানপন্থি রক্ষণশীল দলগুলো গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ করছে। এদিকে গতকাল বুধবার ‘লৈঙ্গিক সমতার’ দাবির সমর্থনে কেরালায় ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানবপ্রাচীর তৈরি করেছেন নারীরা।

কেরালার সব জাতীয় মহাসড়কজুড়ে এ প্রাচীর গড়ে তুলতে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ৫০ লাখ নারী যোগ দেন বলে বিবিসিকে জানায় কর্মকর্তারা। কেরালার সর্ব উত্তরের শহর কাসরাগড থেকে সর্ব দক্ষিণের শহর থিরুভানথাপুরাম পর্যন্ত এই নারী শিকল বিস্তৃত হয়।

গতকাল বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পিনারায় বিজয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ দুই নারী সাবরিমালা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন। যে নারীরা মন্দিরে প্রবেশ করতে চান তাদের সুরক্ষায় আমরা পুলিশকে সকল প্রকার সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছি।’ বুধবার ভোরের দিকে বিন্দু আম্মানি (৪০) এবং কানাকা দুর্গা (৩৯) নামে দুই নারী মন্দিরে প্রবেশ করেন।

বিবিসিকে বিন্দু আম্মানি জানান, ‘আমরা ভোরবেলা মন্দিরে পৌঁছাই এবং কয়েক মিনিটের জন্য মন্দিরের দেবতার দর্শন পাই আমরা। মন্দিরে যাওয়ার সময় পাহাড়ে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তারা বেশ সহযোগী ছিল।’ ওই দুই নারী মন্দিরে প্রবেশ করায় দেবতা অপবিত্র হয়েছে বলে জানায় সাবরিমালা কর্র্তৃপক্ষ। পরে এক ঘণ্টা মন্দির বন্ধ রাখা হয় মন্দিরকে পবিত্র করতে। এরপর আবার মন্দির উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

হোয়াটস অ্যাপে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কালো পোশাক পরে মন্দিরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন দুই নারী। আয়াপ্পা ধর্মসেনার নেতা রাহুল ঈশ্বর বলেন, আমার মনে হয় না ব্যাপারটা সত্য। পুরো ব্যাপারটাই খুব সন্তর্পণে হয়েছে। জানা থাকলে আমরা ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতাম’। এই দুই নারী এর আগেও মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মন্দির কর্র্তৃপক্ষের বাধার মুখে তারা প্রবেশ করতে পারেননি। সাবরিমালা মন্দিরের ওয়েবসাইটে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, ‘মন্দিরের দেবতা লর্ড আয়াপ্পা ছিলেন ‘নিত্য ব্রহ্মচারী’। ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের তাই এই মন্দিরে প্রবেশে বারণ রয়েছে।’