সৌমি ইসলামের পাঁচ কবিতা|122572|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:৪৭
সৌমি ইসলামের পাঁচ কবিতা

সৌমি ইসলামের পাঁচ কবিতা

কবিরাই নবী
(জীবনানন্দ দাশের জন্মদিনে)

কুয়াশার বুকে ভেসে এসেছো
হয়তো নীল নীলিমার বুকে কলমীর গন্ধ নিয়ে
মাথার নিয়ন সাইরেনে সাদা বক হও, আরও গাঢ় জোনাকির মতো
নীলিমায় লীন দেখে, গণিকালয়ের যত ত্রিভুজ সংঘ
মাঝ রাতে প্রেমিকেরও পোড়ায় আঙুল
শরীর ছেড়ে জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেসে 
মালয় সাগর পাড়ে তোমারই অপেক্ষায়।।
হাত ছেড়ে কত দূর গেলে তৈরি হয় দূরত্ব
আর আমরা আসলে কাছে যাওয়ার ছলে কেবলই দূরে সরে যাই
এ রকম অনুভব চেয়ে থেকে নিভে যায় আর কেবলই দূরে সরে যায়
আকাশের ওপার পেরোলেই দেখি, মানুষের বুক ভরা ঘাস
হয়তো আমরা মরে যাইনি আজও তবু মৃত মানুষের 
বিষণ্ন শব্দ ঝরে পড়ে বিপন্ন নীলাভ জলে।।

 

অভিভূত কিশোর

কি এক গভীর বিশুদ্ধ মুহূর্তে
তোমাকে তুলনা করি তারাহীন রাতের সাথে
এ রকম দ্যুতিময় চোখে বহু রাত কেটে গ্যাছে
অথবা স্বপ্নহীন রাত যেনবা বৃষ্টির মতন ঝরে,
আর মিলায় অভিভূত হওয়ার আগেই
হয়তো প্রকৃতিও জানে না নিজে কী সুন্দর মনভূমি
তাই হে অভিভূত কিশোর উড়ন্ত মাছের মত
হলেও বা হয়ে যেও নীলিমায় লীন।।

 

বিনয় কিংবা গায়ত্রী দেবী 

(১) 
কর্ণ চেয়েছে অভীষ্ট আর অর্জুন চায় জয়
অর্জুন সব ধুলোয় মেশায় পরাজয় নয় ক্ষয়
অর্জুন তুমি দেবতা হয়েছ ইতিহাস করে রচনা
ভ্রমের মাঝেই দৃষ্টি বিনয়, হৃদয় ক্ষরণ বোঝ না।।

(২)
পরাজয় আমি অনেক মেনেছি ইতিহাস খুঁড়ে দেখ না
গায়ত্রী দেবী চাকার বৃত্তে
ত্রিভুজ সংঘ, বক্ররেখার সীমানা
এক এক শুধু এক দুই হয়
বিবর্ণতায় তুলোর বালিশে নিরভিসন্ধি অমল নদীতে
সবুজ ঘাসের বক্ষ জুড়ে কলকারখানা মানি না।।

(৩)
সুনেত্রা তুমি হৃদয়ের দাম, হৃদয়ে মেটাতে পারো না
জলের মাঝেই জলের ছবি এঁকে দিতে তুমি এসো না
চলে যেতে যেতে পথের হদিস পথেই করেছি রচনা
তোমার হৃদয় অন্তর মন কাচ ঘর করে দেখ না।।

 

সে কবেকার কথা

সূর্যের সাত রং মুক্তা ফলের মত ক্রমে আলো হয়ে আসে
রাত না ফুরাতেই কোথাও নাই সে আর পৃথিবীতে
নক্ষত্রের অসীম আকাশে নীলাভ রঙের মত ভুলে গেছে সব
কত ভোর প্রহর কেটে গেলে পরেও সে আলো ফেরেনা আর
তবু এই পৃথিবীর পথে রয়ে যায় সে, হরিণের চোখে শালিখের বুকে
একদিন আমিও যাব সেই প্রান্তরে
মানুষের মুখোমুখি বসে ঘাসের মত, ছেয়ে যাব পরম্পরায়
পুরোনো প্রাণের মত নতুন আলো ডেকে যায় আয় আয়,
সে কবেকার কথা

 

আফ্রিকার রূপকথা

ছুটছিলাম মানুষ আমি প্রকৃতির সন্তান৷ ছিলাম এক একের মাঝেই বহু। তুমি আসলে সভ্যতার নামে প্রান্তিক খেতাব দিলে। সদা প্রভুর নামে আমার চোখ বন্ধ করালে, আমি হাত বাড়িয়ে দিলাম, চোখ খুলে দেখি হাতে বাইবেল কিন্তু পায়ের নিচে ভূমি নেই। তুমি চলে গেলে কঙ্কাল রেখে সাথে চাহিদার আগুন। সে আগুনে পুড়িয়ে শ্রম কিনি ঘি তোমার কাছ থেকেই। এখনো আমাদের ভূমি তাই তোমাদের। ভাব হাসি কান্না যেন তোমারই কপি পেস্ট। এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে।