সেলিম সোলায়মানের ‘নি হাও: মেইড ইন চায়না’|128952|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ মার্চ, ২০১৯ ২১:৪২
সেলিম সোলায়মানের ‘নি হাও: মেইড ইন চায়না’
লালন আলতাপ

সেলিম সোলায়মানের ‘নি হাও: মেইড ইন চায়না’

ভ্রমণ নিয়ে বিখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন আবিষ্কারের জন্য যাত্রা করুন,স্বপ্ন দেখুন আর শেষমেশ আবিষ্কার করুন। মার্ক টোয়েনের কথা ধরে আমরা বলতে পারি এ পৃথিবীর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে আছে বহু গল্প। যে গল্পগুলো জানান দেয় মানুষের বিশ্বাস ও জৈবনিক বাস্তবতা, যা স্থান-কাল ভেদে ভিন্নার্থক হলেও জীবনের জন্য একেকটি শিক্ষা। আজকের আমার উদ্দেশ্য ভ্রমণের বিশেষায়ণ নয় বরং এই ভ্রমণকে কত দ্যোতনায় উপস্থাপন করা যায় তা নিয়ে। হ্যাঁ  পাঠক, কভার ফটোর বই সেলিম সোলায়মানের নি হাও : মেইড ইন চায়নার কথা বলছি। বইটি প্রকাশ করেছে তাম্রলিপি। প্রচ্ছদ করেছেন মানিক দে। বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১৪ নম্বর প্যাভিলিয়নে তাম্রলিপি’র স্টলে বইটি পাওয়া যাবে মাত্র ১৩৫ টাকায়।

লেখক মাত্র ৯৫ পৃষ্ঠায় ১৯ টি ভিন্ন ধারার গল্পে ভ্রমণ শুরুর প্রাথমিক চিন্তা থেকে ভ্রমণের নানাবিধ পর্যায় বর্ণনা করে গেছেন বিশেষ বিরতি ছাড়াই। ১৯টি সূচিতে সৃজিত বইটি গল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও মনে হয়েছে লেখক সচেতন থেকেছেন। মনে হয়েছে সঠিক গল্পগুলোই সংযোজিত হয়েছে এখানে। সমাজতান্ত্রিক চীনের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনার প্রচেষ্টাও দেখা গেছে  এই বইয়ে। প্রসঙ্গক্রমে উঠে এসেছে দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন চিত্র, ট্র্যাফিক জ্যাম কিংবা  ডিজিটাল নিয়ন্ত্রন। বইয়ের অনেকগুলো গল্পে ঘুরে ফিরে এসেছে রাজনৈতিক অর্থনীতির সুচারু বিশেষণ যা লেখকে রাজনীতি সচেতন বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। বিদেশ বিভুইয়ে গিয়ে যে মানুষের মাঝে  স্বজাত্য বোধ, দেশপ্রেম ও চেতনায় টান পরে তা ফুটে উঠেছে একাধিক গল্পে। তাছাড়া, চীনা পন্যের প্রতি সাধারণের ভাবনার বিষয়টিও বাদ যায়নি এখানে। লেখক তার লেখায় শুধু চীনের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, সাধারন জীবনযাত্রা ও ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর চমকপ্রদ বর্ণনা দিয়েই শেষ করেননি তুলে এনেছেন  নানা বিড়ম্বনার চিত্রও। এমনকি আবহমান কাল থেকে চলে আসা পিতা ও পুত্রের চিন্তার ও কর্মের ফারাক পুরো বইটি জুড়েই লক্ষণীয়।

যেসব পাঠক চীন ভ্রমণ করেননি তারা পেতে পারেন এক আলেখ্য পট যেন ভ্রমণ না করেও ভ্রমণের স্বাদ। চমকপ্রদ লেখনির জন্য বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে সবার ভালো লাগবে আশা করি। যে কেউ চাইলে এক বসাতেই পড়ে ফেলতে পারেন ছোট কলেবরের এই বইটা। সব বয়সী মানুষের উপযোগী করে লেখা এই বই থেকে যেকোন বয়সের মানুষই গল্পগুলোর স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।

বলে রাখা ভালো  যে, লেখক ভ্রমণ কাহিনীটি লেখার জন্য হাতে কাগজ-কলম নিয়ে গতানুগতিক ধারায় বসে চিন্তা-ভাবনা করে লেখেননি। শুরুটা হয়েছিল সর্বাধিক জনপ্রিয় যোগাযোগ গণমাধ্যম ফেসবুক ওয়ালে তারপর চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদীর উপ-সম্পাদকীয়তে। যার পুনঃলিখিতরুপ হচ্ছে আজকের আমাদের হাতের নি হাও : মেইড ইন চায়না। ভবিষ্যতে আরও ভ্রমণ কাহিনী লেখারও প্রতিশ্রুতিও পাওয়া যাবে  বইটির মুখবন্ধে।

সেলিম সোলায়মান লেখক কিংবা সাহিত্যিক নন, পেশায় একজন ব্যবস্থাপক। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে সফলতার স্বাক্ষর রেখে বর্তমানে তিনি একটি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। পড়ালেখাতেও রয়েছে তার মেধার স্বাক্ষর; সবশেষে পড়েছেন আমেরিকার হার্ভার্ড  বিজনেজ স্কুলে।  

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী উত্তাল সময়ে রাজাকারের পদাবলী নামে প্রথম ছড়ার বই লিখেন তিনি। অতঃপর দীর্ঘ বিরতিতে ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক উপন্যাস প্রজাপতি পলায়ন ও রক্ত যা ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তার পাশাপাশি চট্টগ্রাম একাডেমি থেকেও বিশেষ সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এত ব্যস্ততার মাঝেও মৌলিক সাহিত্য চর্চা নিশ্চয়ই তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। শত ব্যস্ততার মাঝেও ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরও সাবলীলভাবে লিখে যাবেন, এটাই একজন সাধারন পাঠক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা।