সিসিটিভি ক্যামেরার সামনেই অবাধে চলছে অপরাধ|129585|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৯ ২১:২৫
সিসিটিভি ক্যামেরার সামনেই অবাধে চলছে অপরাধ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিসিটিভি ক্যামেরার সামনেই অবাধে চলছে অপরাধ

চুরি ছিনতাই ও অপরাধ কর্মকাণ্ড কমাতে সারা দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, আবাসিক ভবন, বিপণি বিতান, শপিংমলে ও ব্যাংকের এটিএম বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তবে নানা কৌশলে সিসিটিভির সামনেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও খুনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেক ঘটনার কুল কিনারা করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী ধরতে না পেরে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করছে পুলিশ। অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে সহায়তা চাইছে জনগণের। তারপরও অপরাধীদের ধরতে পারছে না।

গত কয়েক মাসে শুধু রাজধানীতেই সিসিটিভির সামনেই মোবাইল ফোনের শোরুমে চুরি, এটিএম বুথের মধ্যে প্রহরী খুনসহ নানা অপরাধ ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ভুক্তভোগী। তাদের অভিযোগ- ‘ঘটনার পর তদন্ত কর্মকর্তা কিছুদিন তৎপর থাকেন। এরপর আর খোঁজ রাখেন না’। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ‘অপরাধীরা বিশেষ কৌশলে চেহারা লুকানোর ফলে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পরেছে। তবে অপরাধ করে কেউই পার পাবে না’।

ফকিরাপুলে একটি মোবাইল শোরুমে ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোররা ১০০ ওপরে অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ ৫৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। দোকানের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দোকানের সামনে ও ভেতরে সিসি ক্যামেরা ছিল। ক্যামেরায় তিনজন চোরের ছবি রয়েছে। পুলিশ তাদের এখনো ধরতে পারে নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফকিরাপুলের ডিআইটি এক্সটেনশন রোডের দুই পাশে প্রায় ৬০টি মোবাইল ফোনের শোরুম রয়েছে। শোরুমগুলোতে মাঝে মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে যারা নতুন দোকান দেয় তাদের চুরি বেশি হচ্ছে। তবে কোন ঘটনাতেই চোর এখনো ধরা পরে নাই।’

চুরির ঘটনায় দোকানের মালিক আব্দুল কাদের বাদী হয়ে পরদিন মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই ফারুক হোসেন এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত চলছে। এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসি ক্যামেরায় চোরদের ছবি দেখা গেলেও চেহারা চেনা যায়নি।’

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর বাংলামোটরের ২৮ নাভানা জহুরা স্কয়ার গ্রেটওয়াল সিরামিকস এর অ্যাকাউন্টস বিভাগের কক্ষে লোহার লকারের তালা ভেঙে ৯ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি চুরির মামলা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দুজনকে চুরি করতে দেখা যায়। তবে তাদের চেহারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. তরিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ডিএমপি মিডিয়ার নিউজ পোর্টাল সকল স্থানেই সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো চোরকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলমান।’

গত ২১ জানুয়ারি সোমবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর বারিধারায় যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরী শামীম খুনি হয়। খুনির মুখ ও শরীর সাদা কাপড়ে জড়ানো ছিল। বুথে ঢুকেই খুনির হাতের কবজির মধ্যে লুকানো হাতুড়ি বের করে ঘুমন্ত শামীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বুঝতে পারে সিসিটিভিতে সব রেকর্ড হয়েছে। এ সময় খুনি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। তার আগেই খুনের দৃশ্য রেকর্ড হয় কিন্তু এখনো হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

হত্যার ঘটনার মূল সন্দেহভাজন এলিট সিকিউরিটি ফোর্স লিমিটেডের জোন ম্যানেজার ফারুকসহ একই প্রতিষ্ঠানের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করে।

শামীম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো খুনিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মুখোশ পরে খুনি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ায় সিসি টিভি ফুটেজ দেখেও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে’।