জিহ্বায় যখন কালো দাগ|132778|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ মার্চ, ২০১৯ ০৯:১৫
জিহ্বায় যখন কালো দাগ
ডা. মো. ফারুক হোসেন

জিহ্বায় যখন কালো দাগ

জিহ্বায় কালো দাগ থাকলে খারাপ দেখা যায়। নানা জায়গায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। দেখতে হবে জিহ্বার কালো দাগ কোথায় হয়েছে। দাগের ধরন কেমন। জিহ্বার কালো দাগ বিস্তৃতি লাভ করছে কি না? এসব তথ্যের ওপর নানা কিছু নির্ভর করে।

কেন হয়

হেয়ারি ব্ল্যাক টাং বা কালো জিহ্বা হয় ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি বা জিহ্বার ছত্রাক সংক্রমণের কারণে। অনেক সময় জিহ্বার পাশের অংশ কালচে দেখা যায়। সিলভার এমালগাম ফিলিং সরিয়ে ফেললে এ ধরনের কালোভাব চলে যায়। জিহ্বার যেখানে টেস্ট বাড রয়েছে, সে স্থানের রং অনেক সময় একটু লাল আবার কালচেও হতে পারে। জিহ্বার টেস্ট বাড অনেকের ক্ষেত্রে জিহ্বার স্পট বা দাগের মতো দেখা যায়। সাধারণ ভাষায় পিগমেন্টেশন বলা হয়। কালো দাগ থাকার জন্য জিহ্বার স্বাদের পরিবর্তন হয় না। কালো হেয়ারি টাং বা জিহ্বা কিছু ওষুধের কারণে হয়। যেমন : অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। এ ছাড়া ভিটামিন স্বল্পতা ও ধূমপানের জন্যও জিহ্বা কালো হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক-জাতীয় ওষুধ  সেবন ঠিক নয়। অ্যান্টাসিড-জাতীয় ওষুধের মধ্যে যদি বিসমাথ থাকে, বিসমাথ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে, যা পাকস্থলীতে আলসার সৃষ্টি করে। মৃত ব্যাকটেরিয়ার কারণে জিহ্বায় কালো দাগ দেখা দেয়। পেপটো বিসমল ওষুধ সেবন করলে জিহ্বা কালো হয়ে যেতে পারে। মাড়ির পাশে যদি কালো দাগ দেখা যায়, তাহলে গাম বা মাড়ির ক্যানসারের আশঙ্কা থাকতে পারে। ক্রমাগত ছত্রাক সংক্রমণের কারণেও জিহ্বায় কালো দাগ দেখা যেতে পারে। অনিয়মিত বা ভুল অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণেও হতে পারে। ক্লোরোহেক্সিডিন-জাতীয় মাউথ ওয়াশও জিহ্বায় কালো দাগ ফেলে।

দাগ দূর করার উপায়

জিহ্বার কালো দাগ যে কারণেই হোক না কেন, গুরুত্ব দিতে হবে। পিগমেন্ট রিডিউসিং কমপ্লেক্স প্রয়োগের মাধ্যমে জিহ্বার কালো দাগ দূর করা যায়। এ ছাড়া গ্যানোডার্মা লুসিডাম প্রজাতির মাশরুম বিশেষ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করে রোগ নিরাময় সম্ভব। তবে জিহ্বার কালো দাগ দূর করতে বেশি সময় লাগতে পারে।

ঘরোয়া উপায়ে

জিহ্বা কালচে দেখালে রক্তে অক্সিজেনের অপর্যাপ্ততা বোঝায়। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে দাগ দূর করে। এককাপ পানিতে কয়েকটা নিমপাতা দিয়ে ফুটিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। দিনে দুবার করে নিমপানি দিয়ে গার্গল করলে দাগ হালকা হয়ে আসবে। আনারসে আছে ‘ব্রমেলাইন’ যা কালো দাগ এবং জিহ্বার মৃতকোষ দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত আনারস চিবিয়ে খেলে কালো দাগ হালকা হয়ে যায়। অ্যালোভেরা দাগের ওপর কোলাজেন গঠন করে দ্রুত দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। দাগের ওপর অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে রেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করার চেষ্টা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। দুটি দারুচিনির কাঠি ও চারটা লবঙ্গ পানিতে ফুটিয়ে  ঠাণ্ডা করে দিনে দুবার এই পানি দিয়ে গার্গল করুন, দাগ হালকা হয়ে যাবে। রসুনের কোয়া দাগের ওপর এক মিনিট ধরে ঘষুন। এক মাস নিয়মিত করলে দাগ চলে যাবে।

ডা. মো. ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ফোন : ০১৮১৭-৫২১৮৯৭

ই-মেইল :[email protected]