মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ওড়াকান্দির স্নানোৎসব ও মেলা|133318|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:২১
মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ওড়াকান্দির স্নানোৎসব ও মেলা
রাজীব আহম্মেদ রাজু, গোপালগঞ্জ

মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ওড়াকান্দির স্নানোৎসব ও মেলা

গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লাখ লাখ ভক্তের সমাগমে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৮-তম জন্ম তিথিতে স্নানোৎসব ও মহা-বারুণির মেলা। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় স্নানোৎসব ও মেলা।

অনুষ্ঠানটি সফল ভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্নানোৎসব এবং মেলা উদ্‌যাপন কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টায় হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরি ও স্নানোৎসব কমিটির সভাপতি হিমাংশুপতি ঠাকুর স্নানোৎসবের শুভ উদ্বোধন করবেন। সঙ্গে থাকবেন, শচিপতি ঠাকুর, অমিতাভ ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর ও সুপতি ঠাকুর শিবুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। স্নান চলবে বুধবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত।

উৎসবকে সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে ঠাকুর বাড়ি এলাকায় উচ্চ পর্যবেক্ষণ চৌকি ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি মাতুয়া সংঘের ৪ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিন লাখ লাখ মাতুয়া ভক্ত ও হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভক্তরা এখানে স্নান করবেন পাপ মোচনের আশায়। স্নানোৎসব উপলক্ষে ঠাকুরবাড়ি আশপাশে বসে মহা-বারুণি মেলা। মেলা চলবে তিন দিন ব্যাপী। মেলায় কুটির শিল্পের সামগ্রী, বিভিন্ন খেলনা, মাটির জিনিস, বাঁশের জিনিস, খাদ্য সামগ্রী, নাগর দোলনাসহ শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকে নানা আয়োজন।

হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরি ও কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দেবেন। তারা হাতে বিজয় ও সত্যের লাল নিশান এবং ডাংখা (বড় ঢোল) বাজিয়ে উলু ধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হেঁটে ছুটে আসেন তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে। এছাড়া বাস, ট্রাক, নসিমন, করিমন, ইজি বাইক, থ্রি-হুইলার ও নৌ-পথে নৌকা ও ট্রলারে করেও এখানে আসেন ভক্তরা। ভক্তরা প্রথমে কামনা ও পরে শান্তি সাগরে (বড় আকৃতির পুকুর) স্নান করে থাকেন। সব মিলে প্রায় ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটে।

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানটিকে নিরবচ্ছিন্ন করতে দুই শত পুলিশ সদস্যের একটি শিফটিং তালিকা তৈরি হয়েছে। এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। ইতিমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান বলেন, স্নানোৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে বড় ধরনের জমায়েত হয়, সেই কারণে ঠাকুরবাড়ির প্রবেশ পথে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ চৌকিও (ওয়াচ টাওয়ার)।