বিজিএমইএ ভবনে ভাঙনের সুর|133486|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ এপ্রিল, ২০১৯ ০৯:০৭
বিজিএমইএ ভবনে ভাঙনের সুর
রায়ান বণিক

বিজিএমইএ ভবনে ভাঙনের সুর

পোশাক খাতের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর কারওয়ান বাজার ভবনে ভাঙনের সুর বাজতে শুরু করেছে। আগামী ১১ এপ্রিল ভবনটির বর্তমান কার্যালয়ে শেষ অফিস করবেন সংগঠনটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরের তিন দিন সরকারি ছুটির সময় ভবনের মালামাল ও আসবাবপত্র নেওয়া হবে উত্তরায় নির্মাণাধীন নতুন ভবন।

১৫ এপ্রিল থেকে নতুন ভবনে অফিস করা শুরু করবেন পর্ষদ সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তার আগে ৩ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ভবনের উদ্বোধন করবেন।

উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে কারওয়ান বাজারের বিজিএমইএ কমপ্লেক্স ভবনটি ছেড়ে দিতে হবে বিজিএমইএকে। ভবনটিকে হাতিরঝিল প্রকল্পের ‘ক্যানসার’ হিসেবে অভিহিত করে তা ভেঙে ফেলার আদেশ দিয়েছে আদালত। ১৬ তলা ভবনটি খালি হওয়ার পর তা ভেঙে ফেলা হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আদালতের রায় অনুযায়ী ১২ এপ্রিলের মধ্যে আমাদের ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার কথা।”

আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার আমরা কারওয়ান বাজারের ভবনটিতে শেষ অফিস করব। পরের তিন দিন সরকারি ছুটি রয়েছে। ওই সময় আমরা পুরান অফিস থেকে নতুন অফিসে সব ধরনের মালামাল ও আসবাবপত্র স্থানান্তর করব। ১৫ এপ্রিল রবিবার উত্তরার নতুন ভবনে অফিস করব আমরা।’       

বিজিএমইএতে কর্মরত একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, “ভবনটি ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন তারা। পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলাদা করে রাখা হচ্ছে নতুন অফিসে নেওয়ার জন্য।”

 

কারওয়ান বাজারের ভবনটির চতুর্থ তলার পূর্বদিকে কাচের জানালার পাশে বসে অফিস করেন এমন একজন কর্মকর্তা রেললাইনের দিকে তাকিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, “যখন রেললাইন দিয়ে কন্টেইনারবাহী ট্রেনের যাতায়াত দেখতাম, তখন খুব ভালো লাগত। মনে হতো, আমাদের দেশের কারখানায় তৈরি হওয়া পোশাক যাচ্ছে, এগুলোই ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বের বড় বড় মলগুলোতে। নতুন অফিসে গেলে এই চিত্র আর দেখতে পারব না।”

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারওয়ান বাজারে দুই বিঘা জমির ওপর বিজিএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

১৬ তলা ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভবনটি উদ্বোধন করেন। তখন থেকেই ১৬ তলা ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলা নিজেদের অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে সংগঠনটি। বাকি তলাগুলো একটি ব্যাংক ও বিভিন্ন পোশাক মালিকদের কাছে অফিস হিসেবে বিক্রি করা হয়।  

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে ভবনটি বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন ছিল না।

২০১০ সালে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে হাইকোর্ট এক রায়ে ভবনটিকে হাতিরঝিল প্রকল্পের ‘ক্যানসার’ হিসেবে উল্লেখ করে ছয় মাসের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলে ভবন নির্মাণের আগে জমি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় নেওয়ার রায় দেয়। পরে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করলে ২০১৬ সালে তা খারিজ হয়ে যায়। তারপর থেকে তৃতীয় দফা আবেদন করে ভবন ভাঙার জন্য সময় চাইলে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল উচ্চ আদালত ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়।

উত্তরায় তৃতীয় প্রকল্পে ১৭ নম্বর সেক্টরে ১১০ কাঠা জমি বাজার মূল্যের অর্ধেক মূল্যে বিজিএমইএকে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সেখানেই বিজিএমইএ কমপ্লেক্স নামে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এটির আয়তন কারওয়ান বাজারের ভবনের দ্বিগুণেরও বেশি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন বিজিএমইএ কমপ্লেক্স ভবন সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ১৩ তলাবিশিষ্ট ভবনটির চতুর্থ তলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় তলার প্রায় ৪৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্লোর নতুন অফিসের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিজিএমইএর কর্মকর্তারা জানান, ভবনটির চতুর্থ তলা পর্যন্ত একসঙ্গে নির্মাণ শেষে পঞ্চম তলা থেকে ১৩ তলা পর্যন্ত দুটি পৃথক টাওয়ার হবে। পঞ্চম তলায় ভবনের পেছন দিকে সুইমিং পুল, অ্যাপারেল ক্লাব, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সভা করার মতো হলসহ আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ সুবিধা থাকছে।

উচ্চ আদালত রায়ে কারওয়ান বাজারের ভবনটিতে যেসব প্রতিষ্ঠান ফ্লোর কিনেছে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিজিএমইএকে। সংগঠনটি ওই নির্দেশনা পালন করতে না পারলেও ফ্লোর মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে।

কারওয়ান বাজারের ভবনটিতে চার হাজার টাকা বর্গফুট দরে ফ্লোর বিক্রি করা হয়েছিল। উত্তরায় নতুন ভবনে প্রতি বর্গফুটের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। পুরনো ভবনের ক্রেতারা নতুন ভবনে সম আয়তনের ফ্লোর কিনলে তাদের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা বর্গফুট দর নেওয়া হচ্ছে। এখনকার চেয়ে বেশি আয়তনের ফ্লোর কিনলে ১০ হাজার বর্গফুট হিসেবে যে মূল্য আসে, সেখান থেকে আগের ভবনের ফ্লোর কিনতে যে টাকা দিয়েছেন, সেটি বাদ দিয়ে বাকি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।