নির্মলেন্দু গুণের বিয়ে!|133992|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৫:৫৭
নির্মলেন্দু গুণের বিয়ে!
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্মলেন্দু গুণের বিয়ে!

ছবি ফেসবুক থেকে নেয়া

বিয়ের পোশাকে সেজেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ। হাতে তার লাল গোলাপ। মাথায় বিয়ের পাগড়ি। কাউকে তিনি নিজের হাতের গোলাপটি দিচ্ছেন। কিন্তু কাকে দিচ্ছেন তা দেখা যাচ্ছে না।

এমন বেশে বৃহস্পতিবার দুটি ছবি দিয়ে একটি কবিতাও পোস্ট করেছেন নির্মলেন্দু গুণ। 

শেষ-বিবাহ

আমি মনে-মনে যত বিবাহ করেছি,
বাস্তবে তত করি নাই।
আমি মনে-মনে যত পেখম ধরেছি,
বাস্তবে তত ধরি নাই।

জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে প্রাণি আছে যতো,
নিমন্ত্রণ পত্র ছেপে নির্দিষ্ট তারিখে
তারা বিবাহ করে না কেউ মানুষের মতো।
আসলে, মানুষ বিবাহ করে ভয়ে।

বৃদ্ধ হলেও বাঘ তো আমি জাতে,
হরিণের মাংস খেয়ে বাঁচি।
কস্তুরীর গন্ধে পাগল নাচি,
স্রষ্টারও সম্মতি আছে তাতে।

পাগড়ি কি আর মাথায় পরেছি সাধে?
পাগড়ি ছাড়া কোনো মুর্শিদের বিয়ে
কখনও হয় না মুর্শিদাবাদে।

শোনো স্বর্ণহরিণী,--তোমার জন্যই 
আজও আমি শেষ-বিবাহ করিনি।

বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এ কবি। শেষ-বিবাহ কবিতার নিচে দুটি কমেন্টে তিনি জানিয়েছেন এ পাগড়ি তার নিজের নয়। যে হোটেলে উঠেছেন সেখানকার দারোয়ানের। 

'পাত্রের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রত্যেকের বিকাশ নম্বরে ধন্যবাদ পাঠানো হইল। প্রয়োজনমতো রসগোল্লা কিনিয়া খাইবেন। কবির বিবাহ-অনুষ্ঠানে রসগোল্লা মাস্ট।'

আরেকটি কমেন্টে কবি নির্মলেন্দু গুণ লেখেন-

'আমার স্ট্যাটাস পড়ে এবং মাথায় পাগড়িপরা ছবি দেখে সবাই খুব মজা পাইছে। আমি কিন্তু ভয়ে ভয়ে আছি-- কখন না তোমাদের "হাজার দুয়ারী হোটেল"-এর ঐ দারোয়ান বলে বসে, আপনেরা কবি সাবের মাথায় যে রাজকীয় পাগড়িখানা দেখতেছেন, ওইটা আসলে উনার নয়, আমার পাগড়ি। আর উনি যদি এইটাকে উনার নিজের পাগড়ি বলে দাবি করেন, আমার আপত্তি নাই, তাহলে উনাকে হাজার দুয়ারী হোটেলের দরোয়ানের চাকরিতে আমার স্থলাভিষিক্ত হতে হবে।
তবেই আমার কম্ম কাবার।

'তোমরা মা-মেয়ে মিলে ঐ দারোয়ান সাহেবকে বোঝাও-- তিনি যেন এই মুহূর্তে এমনকিছু না বলেন। আরও কিছু লাইক, আরও কিছু কমেন্ট পড়বে বলে মনে হয়।'