টেলি সামাদকে শেষ বিদায় জানানোরও সময় হলো না অনেক তারকার|134644|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:৩৭
টেলি সামাদকে শেষ বিদায় জানানোরও সময় হলো না অনেক তারকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেলি সামাদকে শেষ বিদায় জানানোরও সময় হলো না অনেক তারকার

এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় টেলি সামাদকে।

না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা টেলি সামাদ। শনিবার বেলা দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে।

রোববার সকালে কিংবদন্তি এ শিল্পীকে শেষ বিদায় জানায় বিএফডিসি। সকাল ১১টার দিকে টেলি সামাদের মরদেহ বিএফডিসিতে পৌঁছায়। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নানা সংগঠন ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এরপর এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব এর সামনে দুপুর সাড়ে ১২টায় তার চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, এমপি ও চিত্রনায়ক আকবর পাঠান ফারুক, আলমগীর, জায়েদ খান, মুশফিকুর রহমান গুলজার, অমিত হাসান, সম্রাট, আলীরাজ, ফকির আলমগীরসহ চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

এদিকে চলচ্চিত্রের এই গুণী অভিনেতাকে এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আনলেও তার কাছের কিছু মানুষ ব্যতিত দেখা মেলেনি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকাদের। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তেমন কাউকেই দেখা যায়নি।

এমন একজন গুণী ব্যক্তির শেষ বিদায়ের সময়েও চলচ্চিত্র তারকাদের অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি ভালো চোখে নেননি অনেকেই। তার রেশ পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

পরিচালক এম এন ইস্পাহানি আক্ষেপ করে  বলেন, ‘এফডিসি থেকে বিদায় নিলেন টেলি সামাদ। চলচ্চিত্রের এক খণ্ড ইতিহাস। শেষ বিদায়ে সিনিয়র শিল্পীরা অনেকেই উপস্থিত থাকলেও বর্তমান সুপার স্টারদের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। যদি নাম ধরে বলি শাকিব খান, রিয়াজ, ফেরদৌস, সানী, শুভ, বাপ্পী, সাইমন, ইমন, মৌসুমী,  শাবনুর, পপি ওদের কাউকেই দেখা যায়নি।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন ৭৪ বছর বয়সী টেলি সামাদ। বেশ কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হন। গত ডিসেম্বরে টেলি সামাদের শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৪ এপ্রিল স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। কামাল পাশার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। এ অভিনেতাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে। স্ত্রী নিগার সুলতানা, দুই মেয়ে সোহেলা ও সায়মা এবং এক ছেলে সুমনকে রেখে  গেছেন টেলি সামাদ।

তার মূল নাম আবদুস সামাদ। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন নাম বদলে টেলি সামাদ রাখার কথা বলেন। সেই থেকেই তিনি টেলি সামাদ নামে পরিচিতি।

১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন টেলি সামাদ। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা তার বড়ভাই বিখ্যাত চারুশিল্পী আব্দুল হাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সংগীতেও রয়েছে এই গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।

টেলি সামাদ ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় ‘জিরো ডিগ্রী’।

উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে সুজন সখি, মায়ের চোখ, মন বসে না পড়ার টেবিলে, কাজের মানুষ,  মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, মিস লোলিতা, নতুন বউ, মাটির ঘর, নাগরদোলা, গোলাপী এখন ট্রেনে, অশিক্ষিত, গুন্ডা, চাষীর মেয়ে, রঙিন রূপবান ও ভাত দে।