বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার খুঁটি উপজেলা আ.লীগ সভাপতি|135046|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার খুঁটি উপজেলা আ.লীগ সভাপতি
ফেনী প্রতিনিধি

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার খুঁটি উপজেলা আ.লীগ সভাপতি

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াতকর্মী এস এম সিরাজ উদ দৌলা নানা সময়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ। দুই দশক আগে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ পান তিনি। বর্তমানেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে কৌশলে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটিতে ঢুকিয়ে একইভাবে সুফল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

জেলা জামায়াতের একজন নেতা বলেন, এক সময় সিরাজ উদ দৌলা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও দলের সর্বোচ্চ পদ ‘রুকন’ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার আর্থিক বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার খুঁটি উপজেলা আ.লীগ সভাপতি কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে তাকে ২০১৬ সালে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, প্রিন্সিপাল হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসার বখাটে ছাত্রদের দিয়ে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন সিরাজ উদ দৌলা। যাদের দিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোণঠাসা করে রাখতেন। তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তাসহ একাধিক অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালীদের দিয়ে ধামাচাপা দিতেন। তারা জানায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পূর্বে অধ্যক্ষ সিরাজ পূর্বের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুনকে সরিয়ে ওই স্থানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে বসান। শেখ মামুনকে সরিয়ে দেওয়ার কারণই ছিল তিনি একাধিকবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর অধ্যক্ষের যৌন হেনস্তার বেশ কয়েকটি ঘটনার লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়াও তিনি অধ্যক্ষের কক্ষ সাইক্লোন শেল্টারের নির্জন দোতলা থেকে নামিয়ে নিচতলা, মাদ্রাসায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের জন্য একাধিকবার আবেদন করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের রাজনৈতিক দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ সম্পাদকপন্থি শেখ মামুনকে ম্যানেজিং কমিটি থেকে সরিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে রুহুল আমিন ওই মাদ্রাসা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মোতালেব চৌধুরী রবিন। কিন্তু অধ্যক্ষ মৌখিকভাবে শাহাদাত হোসেন শামিমকে সভাপতি বানিয়ে নানা অপকর্ম করতে থাকেন বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয়রা তাকে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে চেনে বলে দেশ রূপান্তরকে অনেকে জানিয়েছেন। শামিম অধ্যক্ষ আটকের পর তার মুক্তির দাবিতে মিছিলও করেন।

মাদ্রাসায় নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের কাছের মানুষ ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমকে অভিভাবক সদস্য করেন অধ্যক্ষ। যদিও ওই মাদ্রাসায় তার ছেলে কিংবা কোনো স্বজন পড়েন না। মুকছুদও তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করে অধ্যক্ষের শাস্তির দাবিকারী অপর কাউন্সিলরের ওপর চড়াও হন।

গত দুই মাস আগে মাদ্রাসার আরেক ছাত্রী অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির শিকার হলে তারাই নানাভাবে বুঝিয়ে বিষয়টির সমঝোতা করেন। এ ধরনের একটি অভিযোগের কথা দেশ রূপান্তরের কাছে স্বীকার করেন অধ্যক্ষের একান্ত সহকারী নুরুল আমিন। এ ঘটনায় তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠলেও তা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন ম্যানেজিং কমিটির লোকজন। একপক্ষ সক্রিয় থাকলেও অপরপক্ষ নানাভাবে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা করে। এ ঘটনার পর ওইদিন স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে মাদ্রাসায় উপস্থিত হলে অবস্থা বেগতিক দেখে অধ্যক্ষকে পুলিশের হাতে তুলে দেন সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, এ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ আমি শুনেছি। তার নিজ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বিতাড়িত হন। এ মাদ্রাসায়ও একাধিক ঘটনার কথা শুনেছি। এ মাদ্রাসায় তিনি বেশ কয়েকজন গুন্ডাকে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে (মাদ্রাসার ছাত্র) পোষেন। তাদের চাপে এসব ঘটনা আলোর মুখ দেখেনি। ২৭ মার্চের ঘটনায় আমি নিজে থানায় গিয়ে তার অপকর্মের বর্ণনা শুনি তিন শিক্ষার্থীর মুখে। সেখানে আমি নিজেও বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। আমার এ অবস্থা হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে বলে তিনি প্রশ্ন ছুড়েন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ম্যানেজিং কমিটিতে কারও সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। তবে ওই দিন ২৭ মার্চ দু’পক্ষ কোন স্বার্থে বিক্ষোভ করেছেন তার জানা নেই। তিনি উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি জানান। তবে নৃশংস এ ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন তিনি।