‘আমার বাবুটা মাত্র বাবা ডাকতে শিখছে, কাকে এখন সে বাবা ডাকবে’|135105|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:৪৬
‘আমার বাবুটা মাত্র বাবা ডাকতে শিখছে, কাকে এখন সে বাবা ডাকবে’
চাঁদপুর পতিনিধি

‘আমার বাবুটা মাত্র বাবা ডাকতে শিখছে, কাকে এখন সে বাবা ডাকবে’

দুর্ঘটনার খবর শুনে মালয়েশিয়ায় নিহত সোহেলের স্ত্রী আমেনা বেগম ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবি: দেশ রূপান্তর

“আল্লাহগো এতো অল্প বয়সে কেন আমার মাকে (মেয়ে) তুমি এতিম করলাগো। আল্লায় বুজি আমার বাবুর দিকে তাকালো না গো। আমার বাবুটা মাত্র ‘বাবা’ ডাকতে শিখছে, আল্লাহ তুমি এতো অল্প বয়সে বাবার ডাক কারি (কেড়ে) নিলা কেন? আমার মা এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে”- বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁদপুরের মো. সোহেল স্ত্রী আমেনা বেগম।

বিলাপ করতে করতেই তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে রোববার রাতে মোবাইলে কথা হয়। তখন আমার স্বামী বলছিল- আমি এখন ডিউটিতে যাব। ডিউটি থেকে আগামীকাল (সোমবার) ফিরে তোমাকে ফোন দেব। তিনি আমার বাবুকে যত্ন নিতে বলেন।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমেনা বলেন, “আপনারা আমার স্বামীর লাশটা ফিরিয়ে দেন। আমার স্বামীকে আমি দুই নয়নে একটু দেখতে চাই।”

গত রোববার রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের কাছে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সোহেলসহ পাঁচ বাংলাদেশি মারা যান।

ওই ঘটনায় চাঁদপুরে দুজন নিহত হন। তারা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. সোহেল (২৪) ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাগল গ্রামের মাওলানা আমির হোসেনের ছেলে আল আমিন।

দুই বছর আগে সোহেল শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকার আমেনা বেগমকে বিয়ে করেন। তাসনিম নামে সাত মাস বয়সী  কন্যা সন্তান রয়েছে তাদের।

জীবিকার সন্ধানে মাত্র আট মাস আগে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাড়ি জমান সোহেল। চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন মো. সোহেল।

নিহত সোহেলের বাবা আনোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ব্র্যাক এবং আত্মীয়দের নিকট থেকে চার লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাই। সংসারের একটু সুখের সন্ধানে আমার সন্তান বিদেশে পাড়ি জামায়। সুখের সন্ধান করতে গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে তা কখনো ভাবিনি।”

তিনি আরও বলেন, এই আট মাসে সোহেল দেশে প্রায় ৯০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তার এক টাকাও আমরা ব্যবহার করিনি। সব ঋণ শোধে দিয়ে দিয়েছি। গত শুক্রবারে আমার ছেলের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। তখন সে বলেছিল, বাবা আগামী সপ্তাহে কিছু টাকা পাঠাবো তোমার কাছে, পাওনাদারদের দিয়ে দিও।

বিলাপ করতে থাকা সোহেলের মা রোকেয়া বেগম বলেন, বড় আদরের ছিল আমার সোহেল। চার মেয়ে আর এই একটি মাত্র ছেলেই ছিল আমার। আল্লাহ আমার ছেলেকে নিয়ে গেল।

তিনি বলেন, আমার মানিকের লাশটা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আনার ব্যবস্থা করে সরকার। সরকার যেন আমাদের দিকে দেখে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে ঋণশোধের আর কোনো উপায় থাকবে না।

নিহত সোহেলের স্ত্রীর বড় ভাই মো. ইউনুস বলেন, “আমার বোনের বিয়ে হয়েছে মাত্র দুই বছর হলো। তার কোলে একটি শিশু সন্তান রয়েছে। সরকার যেন আমার বোনের ও ভাগনির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সহায়তা প্রদান করে। আমরা আমার ভগ্নিপতির লাশ দ্রুত দেশের আনার দাবি জানাই।”