সামরিক পরিষদ প্রধানের পদত্যাগ|136101|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
সুদানে বিক্ষোভের মধ্যমণি
সামরিক পরিষদ প্রধানের পদত্যাগ
প্রতিদিন ডেস্ক

সামরিক পরিষদ প্রধানের পদত্যাগ

সুদানে চলমান বিক্ষোভের মাঝে এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরবিরোধী বিক্ষোভে দেশটির নারীরা এবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এই নারীদেরই একজন আলা সালাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘সুদানের নারীরা দেশের বৈপ্লবিক সময়ে সবসময়ই অগ্রসর ভূমিকা পালন করেছে। আপনি যদি সুদানের ইতিহাসের দিকে তাকান, দেখতে পাবেন রানীরাই এদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ।’

ছবিতে লম্বা সাদা জামা এবং স্কার্ফ পরিহিত সালাহকে সেøাগান দিতে দেখা যায়। সুদান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল এবং স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সালাহ বলেন, ‘এই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি সত্যি গর্বিত। আমি আশা করি আমাদের বিপ্লব কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।’ অনলাইনে এরই মধ্যে তাকে ‘কানদাকা’ বা নুবিয়ান রানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার এই নুবিয়ান রানী এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বর্ণবাদ এবং সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে চাই। তরুণদের পক্ষে বলতে চাই। জানাতে চাই সুদান সকলের জন্য।’ সালাহর এমন পোস্টের পর বিক্ষোভকারীরা তাকে নেতৃত্বের আসনে বসাতে শুরু করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারই তার মৃত্যু হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এক টুইট পোস্টে জানান সালাহ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মাথানত করব না। আমার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা যাবে না। এমন আন্দোলনে নারীরা শুধু তাদের অধিকারের জন্য নয়, গোটা সম্প্রদায়ের অধিকারের জন্য কথা বলে।’  সেনাবাহিনীর হাতে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসানের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ ইবনে আউফ। কিন্তু বেসামরিক লোকজনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিক্ষোভকারীদের অনড় অবস্থানের মধ্যে দ্রুতই সরে দাঁড়ান তিনি। সবশেষ গতকাল শনিবারও একই দাবিতে চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, গত শুক্রবার গভীর রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদের প্রধান আওয়াদ পদত্যাগ করেন। তার ঘোষণার পর সুদানের রাজধানী খার্তুমের সড়কগুলোতে উল্লাস করতে দেখা যায় লোকজনকে। বিক্ষোভকারীরা পতাকা উড়িয়ে ও মোবাইল ফোনে বাতি জ্বালিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। আর গাড়িচালকরা তাদের হর্ন বাজিয়ে বিষয়টি উদযাপন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উল্লসিত কাউকে কাউকে ‘দ্বিতীয় জনের পতন!’ সেøাগান দিতে দেখা যায়। এর মধ্য দিয়ে তারা বশিরের পর আওয়াদের পতনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।