সাইকেলে ‘সত্যিকারের’ গণতন্ত্রের সন্ধান|136103|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
সাইকেলে ‘সত্যিকারের’ গণতন্ত্রের সন্ধান
প্রতিদিন ডেস্ক

সাইকেলে ‘সত্যিকারের’ গণতন্ত্রের সন্ধান

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গণতন্ত্রের দেশ ভারতে ১৭তম লোকসভা নির্বাচন চলছে। গত ১১ এপ্রিল নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনেও পরিবারতন্ত্র ও গণতন্ত্র মুখোমুখি অবস্থান করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের আগেই বিহার রাজ্যের ভোটার লাল মনি দাস সত্যিকারের গণতন্ত্রের সন্ধানে নেমেছেন। জনগণকে গণতান্ত্রিক প্রার্থীকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন। সাইকেলে করে বিভিন্ন খাবার বিক্রির পাশাপাশি তিনি জনগণের উদ্দেশে প্ল্যাকার্ড ও লিফলেট তৈরি করেছেন, যা পড়ে জনগণ সত্যিকারের প্রার্থীকে ভোট দিতে সচেতন হয়। লাল মনি দাস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ কীভাবে তার ভোট নষ্ট করছেÑ একজন ভুল মানুষকে ভোট দিয়ে এ ব্যাপারে কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। ভারতে হয় ব্যক্তিত্ব, নয়তো পার্টি দেখে ভোট দেওয়া হয়। কেউ প্রার্থীর মেধা, সততা অথবা সে অপরাধী কি না তা যাচাই করে দেখে না।’

‘শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য ভোট দিন’ শীর্ষক প্রচারে তিনি সাইকেল সচেতনতা কর্মসূচি শুরু করেন। তার ভ্রাম্যমাণ দোকানে যারা খেতে আসে, তাদের তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

মনি দাস তার এই কাজের জন্য নিজের পকেট থেকে ১০ হাজার রুপি ব্যয় করেছেন। এই অর্থ দিয়ে কয়েক হাজার লিফলেট প্রকাশ করেন জনগণকে দেওয়ার জন্য। ওই লিফলেটে ১০টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেখে ভোটাররা প্রার্থীদের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারবেন। তার মতে, ভোটাররা এই দশটি বৈশিষ্ট্য প্রার্থীদের মধ্যে দেখতে পেলে নিজেই বুঝে নিতে পারবেন ওই প্রার্থীকে তিনি ভোট দেবেন কি না। ভোট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির এই কাজে মনি দাসকে বাধা দিয়েছিলেন তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা। কারণ তারা মনি দাসের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন।

খাবার খেতে আসা জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যারা দিল্লি গিয়ে আমাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন না, তাদের ভোট দেওয়া কি আমাদের উচিত? পার্লামেন্টকে বলা হয় গণতন্ত্রের মন্দির। সেই মন্দিরে জনতার কথা বলা হয় না। জনগণ চাইলে আমিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি। সবকিছুর বাইরে আমি ভারতে সত্যিকারের গণতন্ত্র দেখতে চাই।’

২০১৪ সালের নির্বাচনে ভারতের পার্লামেন্টে নির্বাচিত হওয়া এমপিদের এক-তৃতীয়াংশেরই বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও আছে। তাই এবারের নির্বাচনে ৫৪৩টি আসনে যাতে কোনো অপরাধী নির্বাচিত হতে না পারেন, তাই চান মনি দাস।