জনপ্রতিনিধিদের মত নিয়ে সুদ মওকুফ করবে রাকাব|136128|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
জনপ্রতিনিধিদের মত নিয়ে সুদ মওকুফ করবে রাকাব
নীতিমালা শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি
আবুল কাশেম

জনপ্রতিনিধিদের মত নিয়ে সুদ মওকুফ করবে রাকাব

নীতিমালা সহজ করে কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের সুদ মওকুফ করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের পুরনো খেলাপি ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় নীতিমালা সহজ করে তাদের ঋণ মওকুফ করার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি ও স্কুল শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে এ ধরনের গ্রাহকদের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের কৃষক ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্পে ঋণ নেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষায়িত এ ব্যাংক। এর আগে পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতের উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রত্যয়নে সুদ মওকুফ করা হতো।

রাকাবের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্যের মতো কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার মতামত বা প্রত্যয়ন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। এসব ক্ষেত্রে মুরগি, গাভী ও মাছের মড়ক, নিম্নমানের বাচ্চা ও ডিমের দাম কমে যাওয়াকে প্রকল্পের লোকসান বা রুগ্ণ হয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এখন থেকে এ ধরনের ঘটনায় উপজেলার কর্মকর্তাদের মতামত বা প্রত্যয়নের পরিবর্তে ঋণগ্রহীতার এলাকার দুজন গণমান্য ব্যক্তির মতামত বা প্রত্যয়ন হলেই সুদ মওকুফ করা যাবে।

তিনি জানান, গণ্যমান্য ব্যক্তি বলতে একজন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং ওই এলাকার মাধ্যমিক অথবা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে বোঝানো হয়েছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও হাইস্কুলের শিক্ষকরা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের কাছে সুদ মওকুফের প্রস্তাব করতে পারবেন।

ঋণগ্রহীতার মৃত্যু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মড়ক, নদীভাঙন বা দুর্দশাজনিত কারণে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদ মওকুফ করতে পারে রাকাব। এর পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ চাইলে ঋণে বিনিয়োগ করা অর্থের খরচ (কস্ট অব ফান্ড) আদায় না করেও ছাড় দিতে পারে। এছাড়া এর আগে সুদ মওকুফের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে জোনাল নিরীক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশে মওকুফ করা টাকা ডেবিট অ্যাডভাইসের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় হিসাবে পাঠানো হতো। এখন থেকে মওকুফ করা অর্থ শাখার আয় খাত থেকে সমন্বয় করে প্রধান কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় হিসাবে পাঠাতে হবে।

জানা গেছে, গত ২৮ অনুষ্ঠিত রাকাবের পরিচালনা পর্ষদের ৪৯৪তম সভায় সুদ মওকুফ নীতিমালা সংশোধন করা হয়। সভায় আলোচনা হয়, সুদ মওকুফ নীতিমালায় কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে নির্দেশনা রয়েছে তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালের আগে বা পরের পুরনো ঋণগ্রহীতাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা মড়কে খামারের ক্ষতি হয়েছে এমন তথ্য উপজেলার সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে সংরক্ষিত নেই। ফলে উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রত্যয়ন দিতে আগ্রহ দেখান না। এ ধরনের প্রত্যয়ন সংগ্রহ করতে গ্রাহকরা অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মতামত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সুদ মওকুফের জন্য উপজেলার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রত্যয়ন নেওয়ার বিষয়টি খামাখা। কারণ, গ্রাহককে ব্যাংক যতটা জানে, তার তথ্য-উপাত্ত ব্যাংকের কাছে যতটা থাকে, তা উপজেলা কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে থাকে না। এজন্য ব্যাংকের ভেতরেই সুদ মওকুফের জন্য একটা কমিটি থাকতে পারে, যে কমিটি ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নথিপত্র বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে।

তৃতীয় পক্ষের মতামত মানেই গ্রাহকের জন্য বাড়তি খরচের ব্যবস্থা করা। তবে উপজেলার কর্মকর্তাদের পরিবর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতামত বা প্রত্যয়ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগের তুলনায় বেশি খারাপ হয়েছে। এদিকে রাকাবের পরিচালনা পর্ষদের ওই সভায় দিনাজপুর উত্তর জোনের ১০২টি মন্দ মানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও ব্যাংক এসব খেলাপিদের থেকে টাকা আদায় করতে পারেনি। সবগুলোই শস্যঋণ এবং ৫ বছরের বেশি সময় ধরে মন্দ মানের খেলাপি। এসব গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।