বিনিময় প্রথা থেকে বিটকয়েন|136133|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
বিনিময় প্রথা থেকে বিটকয়েন
রায়ান বণিক

বিনিময় প্রথা থেকে বিটকয়েন

সৃষ্টির আদিযুগে বিনিময় প্রথাও ছিল না। যখন মানুষ পশু পালন ও কৃষিকাজ শুরু করল, তখনই প্রথম বুঝতে পারল, দরকারি সব জিনিস তার নেই। সেগুলো অন্যের কাছে আছে। তখনই মানুষ নিজের থাকা বাড়তি পণ্য অন্যকে দিয়ে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসটি নিয়ে আসত। পশু পালন ও কৃষিকাজ শুরুর পর ধান, গম, সবজি, গরু ও ভেড়া ছিল জনপ্রিয় বিনিময় মাধ্যম। এ প্রথায় প্রয়োজনীয় জিনিস পেতে অনেক বেশি সময় লাগত মানুষের।

প্রাচীনকালে কবে কোথায় প্রথম বিনিময় মাধ্যম হিসেবে মুদ্রা ব্যবহার হয়েছে, তা জানতে পারেননি গবেষকরাও। কারণ, লিখন পদ্ধতির ইতিহাসের চেয়েও মুদ্রার আবির্ভাব আগে ঘটেছে। প্রাচীন ব্যাবিলিয়নে খ্রিস্টপূর্ব ১৭৬০-এ লেখা দ্য কো অব হাম্মুরাবি আইনটি এ যাবৎ পাওয়া সবচেয়ে পুরনো আইন। তাতে ঋণ, জরিমানা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি শব্দের উল্লেখ আছে। এতেই স্পষ্ট যে, তার আগেই ওই অঞ্চলে মুদ্রার ব্যবহার ছিল। খ্রিস্টের জন্মের ৭০০ বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে বয়স্ক কচ্ছপের ছাপসহ মুদ্রার প্রচলন ছিল। বর্তমান তুরস্কের লাইদিয়ার রাজা আলিয়াটিস। কয়েনে গর্জনরত সিংহের ছাপ ছিল।

ভূ-মধ্যসাগরীয় এলাকাজুড়ে ওই মুদ্রায় বাণিজ্য হওয়া শুরু হয়। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বাংলার মুদ্রার প্রচলন ছিল বলে ধারণা করা হয়। ১৪ শতাব্দীতে ইবনে বতুতা লক্ষ করেছিলেন যে বাংলা সালতানাতের লোকজন সোনা ও রুপার ধাতবকে দিনার না বলে ‘টাকা’ বলত।  বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ব বাংলায় (পাকিস্তান অধিরাজ্যের অংশ) এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ব বাংলার পুনঃনামকরণ করা হলো পূর্ব পাকিস্তান; যেখানে পাকিস্তানি রুপিতেও ‘টাকা’ শব্দটি মুদ্রিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে মুদ্রা হিসেবে এই ভূখণ্ডে পাকিস্তানি রুপি প্রচলিত ছিল। ৪ মার্চ ১৯৭২ সালে সরকারি মুদ্রা হিসেবে ‘টাকা’কে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোট ছিল। ১৯৭৫ সালে ৫০ টাকার নোট, ১৯৭৭ সালে ৫০০ টাকার নোট ও ১৯৮০ সালে ২০ টাকার নোটের প্রচলন হয়। ২০০৮ সালে ১০০০ টাকার নোটের প্রচলন করে বাংলাদেশ।