টাকা না দিলে মিলছে না বিদ্যুতের সংযোগ |136135|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
টাকা না দিলে মিলছে না বিদ্যুতের সংযোগ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

টাকা না দিলে মিলছে না বিদ্যুতের সংযোগ

পঞ্চগড়ে পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ নিতে দিতে হচ্ছে টাকা। মিটারপ্রতি চার থেকে সাত হাজার টাকা করে গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সাধারণ মানুষের কাছে সংযোগের জন্য নেওয়া বাড়তি লাখ লাখ টাকা স্থানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও বিদ্যুৎ বিভাগের বড় বড় কর্তার মধ্যে ভাগাভাগি হয় বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। মাঠ পর্যায়ে পল্লী বিদ্যুতের নিবন্ধিত ইলেক্ট্রিশিয়ানরা এই টাকা ওপর মহলে পৌঁছে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বন্দিরাম গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের অধিকাংশ মানুষই কৃষক কিংবা শ্রমিক। দুই মাস ধরে ওই গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য গ্রামবাসী ইউপি সদস্য অবিনাশের মাধ্যমে তিন ধাপে দালালদের টাকা দিয়েছেন। তবে টাকা দিয়ে তার ও খুঁটির দেখা মিললেও এখনো বিদ্যুতের বাতি জ্বলেনি অনেকের বাড়িতেই।

কয়েকজন জানান, অবিনাশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান, নব কুমার, হাবিবুর রহমান হবি, ইলেক্ট্রিশিয়ান মজনুসহ কয়েকজন মিলে এই টাকা নিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিমের কাছে টাকা জমা করা হয়। এই চক্রটি সংযোগ দেওয়াসহ নানা অজুহাতে বন্দিরামসহ কয়েকটি এলাকার গ্রাহকদের থেকে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

টাকা নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘ঠিকাদার, ইলেক্ট্রিশিয়ান এবং অন্যান্য খরচ বাবদ টাকা তোলা হয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন ইউপি সদস্য ও আব্দুল মান্নান। আমার কাছে কিছু টাকা জমা আছে। বাকি টাকা তারা দুজন নিয়ে কী করেছে আমি জানি না।’

টাকা নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করলেও লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য অবিনাশ।

জানা গেছে, রাজশাহীর জি এম ট্রেডার্স কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজটির দায়িত্ব পায়। এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা কাজটি করার দায়িত্ব দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আসাদুল আলমকে। আসাদুল আলম কাজটি আবার চুক্তিতে করতে দিয়েছেন দিনাজপুরের এক ব্যক্তিকে। ঠিকাদার আসাদুল আলম বলেন, ‘আমি কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ নিতে পারে।’

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, দালালরা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদারকে ঘুষ দিলে দায়দায়িত্ব পল্লী বিদ্যুৎ নেবে না। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।