পটুয়াখালীর উপকূলে আতঙ্ক শাহ আলম বাহিনী|136141|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
পটুয়াখালীর উপকূলে আতঙ্ক শাহ আলম বাহিনী
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর উপকূলে আতঙ্ক শাহ আলম বাহিনী

জলদস্যুতা, হাইজ্যাক-চাঁদাবাজি, গবাদিপশু চুরি, ট্রলারে হামলা, সংরক্ষিত বনের গাছ কাটা, চুরি করা গরু জবাই করে বিক্রি করা, ট্রলার লুট করে ইঞ্জিন বিক্রি, দোকানে হামলা করে কাঁকড়া-মাছ লুট, এমনকি রেহাই পাচ্ছে না এলাকার নারীসহ স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা পর্যন্ত। অহরহ এসব করে যাচ্ছে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার লতাচাপলি ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের শাহ আলম হাওলাদার ওরফে জোংলা শাহ আলম।

অন্তত অর্ধডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও দৌরাত্ম্য কমেনি জোংলা শাহ-আলমের। কার্যত জোংলা শাহ-আলম বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে খাজুরা গ্রামের শত শত পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলা থেকে আসা জোংলা শাহ আলম ১৫-১৬ বছর আগে ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৪০ বছর বেড়িবাঁধের বাইরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনের মধ্যে বসবাস থাকায় ‘জোংলা শাহআলম’ না বললে কেউ চেনে না। সংরক্ষিত বনের গাছ কাটায় একাধিক মামলা করেছে বন বিভাগ। এরপর শুধু বনে নয়, আন্ধারমানিক নদী যেখানে সাগরে মিলেছে সেই মোহনায় জলদস্যুতায় নেমে পড়ে। ডাঙায়ও অপরাধপ্রবণ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সে। এ চক্রে রয়েছেন নিজের ছেলেসহ ২০-২২ সদস্য।

কুয়াকাটা সৈকতের শেষ প্রান্ত (পশ্চিম) লেম্বুরচর, খাজুরা এলাকার জেলে, শুঁটকি ব্যবসায়ী, ফ্রাই মাছ ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষের কাছে জোংলা শাহ আলম নামটি এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। খাজুরা গ্রামের ইউনুচ সরদার জানান, গরু চুরি করে মাংস বিক্রির ঘটনায় জোংলা শাহআলমসহ ১০ জনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

খাজুরা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী কালাম ফকির জানান, অভিযোগের পাহাড় শাহ আলম হাওলাদার ওরফে জোংলা শাহআলম বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে।

ইউপি মেম্বার আলম ফকির জানান, জোংলা শাহআলম বাহিনীর ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ফারুক নামের এক নিরীহ ব্যবসায়ীকে জোংলা বাহিনী উচ্ছেদ করে দিয়েছে।

অভিযুক্ত শাহআলম ওরফে জোংলা শাহআলম বলেন, ‘খাজুরায় দোকান করছি। এ কারণে ফারুক আমার নামে মামলা দিয়েছে যাতে দোকান করতে না পারি। আগের মামলাগুলো ফয়সালা হয়ে গেছে।’ মহিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, শাহআলম ওরফে জোংলা শাহ আলম খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তারও করেছে। এখনো গ্রেপ্তারে সচেষ্ট রয়েছে।