বাংলাদেশ-ভুটান পাঁচ চুক্তি স্বাক্ষর|136155|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
বাংলাদেশ-ভুটান পাঁচ চুক্তি স্বাক্ষর
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-ভুটান পাঁচ চুক্তি স্বাক্ষর

কৃষি, স্বাস্থ্য, জাহাজ চলাচল, পর্যটন ও জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ ছাড়া উভয় দেশ পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে পরস্পরকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার বৈঠক শেষে এসব বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছায়। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পরিবহন ও ট্রানজিট কার্গো চলাচলে অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহারের বিষয়ে দ্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। নৌপরিবহন সচিব আবদুস সামাদ এবং ভুটানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো ইয়েসি ভাংদি এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

দুই দেশের কৃষি খাত উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং ভুটানের কৃষি বিভাগের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম এবং ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব উগানদা দফু।

দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এবং ভুটানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আরআইএম) মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বিষয়ে ভুটানের পর্যটন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এদিকে পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভুটানের বাজারে উভয় দেশের বেশ কিছু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে রাজি হয়েছে দুই দেশ। শহিদুল হক জানান, আলোচনায় ভুটান বাংলাদেশের বাজারে দেশটির ১৬টি পণ্যের শুল্ক এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে, আর বাংলাদেশ চেয়েছে তাদের বাজারে ১০টি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার। পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রস্তাব বিবেচনার বিষয়ে ডা. লোটে শেরিংকে আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন শহিদুল হক। তিনি বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। ট্রানজিটের বিষয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) সড়ক এবং রেল যোগাযোগের বিষয়টি একটি বড় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, যদিও সব দেশই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তবে ভুটানের সংসদে এটি অনুসমর্থিত হয়নি। ভুটানের নতুন সরকার বলেছে, এই উদ্যোগ সংক্রান্ত বিলটি তাদের সিনেটের উচ্চকক্ষে আলোচনার জন্য আবার উত্থাপিত হবে। ভুটানের সংসদে বিলটি অনুমোদিত হলে আলোচ্য চারটি দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা-থিম্পুর সম্পর্ক গভীর এবং ঐতিহাসিক উল্লেখ করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে ভুটানই প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল যে ইতিহাস ভোলার মতো নয়। দিন দিন এ সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে।

শহিদুল হক বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটান সফরের পর দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ বিষয়ে জোরালো আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি এ বিষয়ে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ভুটান চিকিৎসক নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান শহিদুল হক।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে দেখভাল করবেন। কেননা স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজে ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শহিদুল জানান, বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অটিজম খাতে অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।

ওষুধ নিতে আগ্রহ ভুটানের

বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভুটান। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আলাপকালে এ আগ্রহ দেখান তিনি।

বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশ স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা বাড়াতে অনুরোধের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ভুটানের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ৫টি আসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশের নৌ-স্থলবন্দর ব্যবহারের আগ্রহ

এদিকে একই হোটেলে নৌপরিবহন পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী লোটে শেরিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর এবং নৌরুট ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ। ভুটান বাংলাদেশের স্থল ও নৌবন্দর ব্যবহারের ফলে কার্গো হ্যান্ডলিং এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এতে বাংলাদেশের রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে।

স্মৃতির টানে আজ ময়মনসিংহে শেরিং

স্মৃতির টানে আজ রবিবার ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেরিং। সেখানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। শেরিং নিজে এ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে লোটে শেরিং হেলিকপ্টারে করে ময়মনসিংহে পৌঁছাবেন। বেলা ১১টায় তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে উপস্থিত থাকবেন।

রাষ্ট্রীয় সফরে আসা ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিংয়ের নিরাপত্তায় শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানে কলেজের সাবেক-বর্তমান ছাড়াও লোটে শেরিংয়ের ৭৭ জন সহপাঠীও উপস্থিত থাকবেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, লোটে শেরিং ১৯৯১ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি এমবিবিএস কোর্স শেষ করে আরও একটি প্রশিক্ষণ নেন ময়মনসিংহে। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে আসছেন।