সিরাজের বলাৎকারের শিকার মাদ্রাসাছাত্ররাও|136157|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
ফেইসবুক লাইভে অভিযোগ
সিরাজের বলাৎকারের শিকার মাদ্রাসাছাত্ররাও
ফেনী প্রতিনিধি

সিরাজের বলাৎকারের শিকার মাদ্রাসাছাত্ররাও

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ‘হোতা’ অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা মাদ্রাসাছাত্রদের বলাৎকার করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে লাইভে এসে এমন অভিযোগ করেন ফেনীর দৌলতপুরের আবুল বাশার নামের এক ব্যক্তি। লাইভে বাশার বলেন, ‘আমার দাদার প্রতিষ্ঠা করা এক মাদ্রাসার সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা। তখন আমাদের মাদ্রাসার ছাত্রদের বলাৎকার করেছিলেন সিরাজ। সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা আজ আমাকে ফেইসবুক লাইভে আসতে বাধ্য করেছে। আমি ধর্ষক সিরাজ-উদ-দৌলা সম্পর্কে কিছু তথ্য দিতে চাই।’

আবুল বাশার বলতে থাকেন, ‘১৯৯৫ সালে আমি বাড়িতে যাই। তখন সিরাজ-উদ-দৌলা আমার দাদার প্রতিষ্ঠিত দৌলতপুর সালামাতিয়া মাদ্রাসার সুপার। ছাত্রদের পড়ানোর নাম করে তাদের হোস্টেলে রেখে রাতে বলাৎকার করতেন। একদিন বিকেলে নবম শ্রেণির এক ছাত্র আমাকে জানায়, মাদ্রাসার সুপার সিরাজ-উদ-দৌলা তাকে বলাৎকার করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করলে সিরাজ-উদ-দৌলা আমার পেছনে লাঠিয়াল বাহিনী লাগিয়ে দেয়। আমি লাঠিয়াল বাহিনীকে প্রতিহত করতে পারলেও সুষ্ঠু বিচার করাতে পারিনি। নির্যাতিত ছেলেটি বিচার পায়নি।’

ফেনীর দৌলতপুরের বাসিন্দা বলেন, ‘বিচার করতে না পারার কারণ সিরাজ-উদ-দৌলার দোসর, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও বিএনপি নেতা মাহবুবল হক; বর্তমানে সোনাগাজীর সোনাপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান দৌলতপুর সালামাতিয়া মাদ্রাসার সুপার বজলুল করিম ও জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতারণার কারণে সুষ্ঠু বিচার হয়নি। সিরাজ-উদ-দৌলাকে রক্ষা করেছে এরা।’

নিহত নুসরাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবুল বাশার আরও বলেন, ‘আমি নুসরাত জাহান রাফির প্রতি কৃতজ্ঞ যে, ১৯৯৫ সালে আমি যে বিচার করাতে পারিনি, ২০১৯ সালে তুমি সেই বিচারের দাবি ভাইরাল করতে পেরেছ। তুমি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেও তোমার বিচারের দাবিতে সারা দেশ সোচ্চার। ধর্ষক সিরাজ-উদ-দৌলার বিচার চাই আমরা।’