আজ বাঙালির নববর্ষ|136161|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
আজ বাঙালির নববর্ষ
পাভেল রহমান

আজ বাঙালির নববর্ষ

সহিংসতার বিরুদ্ধে সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা নিয়ে বরণ করা হচ্ছে বাংলা নতুন বছরকে। পাহাড় ও সমতলে বিষু, বিজু ও বৈশাখী উৎসবের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে বর্ষবরণের নানা আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। গতকাল চৈত্রসংক্রান্তিতে বিদায় জানানো হয় ১৪২৫ সনকে। আজ নানা আয়োজনে বরণ করা হচ্ছে ১৪২৬ সনকে। মাত্রই কয়েক দিন আগে সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদ প্রভাব ফেলেছে এবারের বর্ষবরণের আয়োজনে। পহেলা বৈশাখে কালো ব্যাজ ধারণ করে নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা। এ ছাড়া বিশ^জুড়ে মানুষ হত্যা আর সহিংসতার বিরুদ্ধে বার্তা দিতে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে- ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। এবারই প্রথমবারের মতো সরকারি নির্দেশে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে বর্ষবরণ উৎসব। বিশ^জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৮ কোটি বাঙালি নানা আয়োজনে বরণ করছে নতুন বছরকে। চলছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার প্রচলন শুরু হয়। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথম দিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলা বর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ আয়োজনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেসকো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়। নববর্ষ উদযাপন এখন বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

নববর্ষ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিক তুলে ধরে ক্রোড়পত্র বের করবে। সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নববর্ষকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলা।

প্রতি বছরের মতো এবারও রমনার বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সাজিয়েছে ছায়ানট। ভোর সোয়া ৬টায় বছরের প্রথম সূর্যোদয়কে স্বাগত জানানো হবে রাগালাপ দিয়ে। দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তির অনুষ্ঠানের সূচনা হবে সেতারের সুরের মূর্ছনায়। শুরুতে থাকবে রাগ পরমেশ্বরী। এই পরিবেশনা শেষে গীত হবে সম্মেলক কণ্ঠের গান ‘এসো হে বৈশাখ’। অনুষ্ঠানে ১২টি সম্মেলক গান এবং একক কণ্ঠে গাওয়া হবে ১৫টি গান। এ ছাড়া থাকবে পাঠ, আবৃত্তি। ছায়ানটের সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুন অনুষ্ঠানের শেষে বক্তব্য দেবেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে সকাল ৯টায় বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য- ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। শোভাযাত্রার পুরোভাগে এবার থাকবে মহিষ, পাখি ও ছানা, হাতি, মাছ, বক, জাল ও জেলে, টেপা পুতুল, মা ও শিশু এবং গরুর আটটি শিল্পকাঠামো। অন্যদিকে পুরান ঢাকায় সকাল ১০টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করছে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ। তাদের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘নদী’। মঙ্গল শোভাযাত্রায় সবার হাতে থাকবে বিভিন্ন ধরনের মাছ, বজরা, ডিঙিসহ নানা প্রতিকৃতি এবং বাংলার নদীর নানা অনুষঙ্গ।

‘হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারা ও চ্যানেল আই। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুই দিনব্যাপী বর্ষবরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। আজ রবিবার সকাল ৮টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে লাঠিখেলা, অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এবং বিকেল ৩টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে হাডুডু খেলা, লাঠিখেলা, অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকনাট্য পরিবেশনা।

বাংলা একাডেমি বইমেলাসহ বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে একাডেমি চত্বরে। জাতীয় প্রেস ক্লাব বর্ষবরণে তাদের সদস্য ও পরিবারবর্গের জন্য সকাল থেকেই খৈ, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা ও বাঙালি খাবারের আয়োজন রেখেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও অনুরূপ আয়োজন রেখেছে তাদের সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের জন্য।