উৎসবে রঙিন পাহাড়|136168|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০
উৎসবে রঙিন পাহাড়
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিনিধি

উৎসবে রঙিন পাহাড়

বর্ষবরণ ঘিরে পার্বত্য জনপদে এখন উৎসবের আমেজ। গতকাল শনিবার চাকমা জনগোষ্ঠীর বিজু উপলক্ষে ঘরে ঘরে ছিল অতিথি আপ্যায়ন। এই দিনে ৩২ রকমের সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ ‘পাজন’ পরিবেশন করা হয়। বৈসু উপলক্ষে ত্রিপুরারা খাগড়াছড়ি খালে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসায়। মারমাদের সাংগ্রাই ঘিরে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। আজ নববর্ষে চাকমারা গজ্জাপজ্জা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায় হারি বৈসু পালন করবে।

গত শুক্রবার পানিতে ফুল ভাসিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বর্ষবিদায় ও বরণের বৃহত্তম উৎসব বৈসাবি। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠী বিষু, কোনো কোনো জনগোষ্ঠী বিহু নামে পালন করে থাকে। বৈসুর ‘বৈ’ সাংগ্রাইয়ের ‘সা’ এবং বিজু, বিষু ও বিহুর ‘বি’ নিয়ে উৎসবটি সংক্ষেপে ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত।

রাঙ্গামাটি : গতকাল চাকমারা মূল বিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা ও ত্রিপুরারা বৈসুকমা পালন করেছে। ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় বাহারি খাবারের। আপ্যায়নে মেতে ওঠে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষ। রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা নিজ নিজ বাসভবনে সর্বজনীন আপ্যায়ন, সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন।

আজ নববর্ষের প্রথম দিন চাকমা সম্প্রদায় গজ্জাপজ্জা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায় হারি বৈসু উৎসব পালন করবে। এ ছাড়া আজ থেকে মারমা সম্প্রদায়ের তিন দিনের উৎসব শুরু হবে। উৎসবের শুরুতে তরুণ-তরুণীরা জলকেলি বা পানি খেলায় মেতে ওঠে। নতুন বছরে একে অপরের গায়ে পানি বর্ষণের মাধ্যমে দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি মুছে ফেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

খাগড়াছড়ি : বৈসু উপলক্ষে সকালে ত্রিপুরা তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ খাগড়াছড়ি খালে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে সুখ ও শান্তি কামনা করে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে নদী, খাল, পুকুরে ফুল ভাসানো হয়। হরেক রকম ফুল দিয়ে ঘর সাজানো হয়। উৎসব ঘিরে চলছে পাড়ায় পাড়ায় ঐতিহ্যবাহী ‘দ’ এবং আলারি খেলা। আজ থেকে আগামী তিন দিন ত্রিপুরারা হারি বৈসু, বৈসুমা ও বিচিকাতাল নামে উৎসব পালন করবে। মারমাদের সাংগ্রাইং বর্ষবরণ উপলক্ষে আজ রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব ও বিভিন্ন খেলাধুলা।

এদিকে জেলার সিন্দুকছড়িতে বাংলা পুরাতন বর্ষ বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়েছে। গতকাল সকালে বিভিন্ন এলাকার মারমা তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোররা বাহারি সাজে এতে অংশ নেয়। প্রধান অতিথি হিসেবে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি সিন্দুকছড়ি সেনা জোন অধিনায়ক রুবায়েত মাহমুদ হাসিব। উপস্থিত ছিলেন গুইমারা উপজেলার চেয়ারম্যান উষেপ্রু মারমা, সিন্দুকছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান রেদাক মারমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বান্দরবান : মারমাদের সাংগ্রাই উপলক্ষে গতকাল সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে উৎসব উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। এতে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রোসহ ৮টি নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন। পরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাজার মাঠে আয়োজন করা হয় বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা। সেখানে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের উপহার দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে বুদ্ধ মূর্তি ¯œান, বৌদ্ধ মন্দিরে প্রদীপ প্রজ¦ালন, পিঠা উৎসব, মৈত্রী পানিবর্ষণ ও নানা ধরনের লোকজ খেলাধুলার আয়োজন।