৮০০ বছরের রহস্যময় স্বর্ণ গন্ডার|141113|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ মে, ২০১৯ ১৬:২৮
৮০০ বছরের রহস্যময় স্বর্ণ গন্ডার
অনলাইন ডেস্ক

৮০০ বছরের রহস্যময় স্বর্ণ গন্ডার

আফ্রিকায় শক্তির অন্যতম প্রতীক গন্ডার। ১৯৩৪ সালে সোনার তৈরি একটি গন্ডারের কথা প্রকাশ্যে আসে। যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস ও রহস্য।

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সাব-সাহারান আফ্রিকার সবচেয়ে বড় রাজ্য ছিল মাপুঙ্গুবে। শ্বেতাঙ্গরা বসতি গড়ার আগে এটি ছিল অন্যতম সমৃদ্ধিশালী রাজ্য। জিম্বাবুয়ে সীমান্তের বেশ কাছেই অবস্থিত ছিল মাপুঙ্গুবের।

এই রাজ্যের স্থায়ীত্ব ছিল ১২২০ থেকে ১২৯০ পর্যন্ত। সোয়াহিলি উপকূল দিয়ে মাপুঙ্গুবে সোনার বাণিজ্য চালাত সেই সময়। আর স্বর্ণ গন্ডারটি সেই আমলের।

হাতির দাঁত, পশুর চামড়া, কাচের পুঁতি লেনদেন হতো মাপুঙ্গুবের অন্তর্গত বাম্বানদিয়ানালো থেকে। যার অস্তিত্ব ছিল ১০৩০-১০২০ পর্যন্ত। কিন্তু ১৩ শতকে সোনাই হয়ে উঠল প্রধান।

প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানে মাপুঙ্গুবে পাহাড়ে এক রাজার সমাধি খননের সময় উদ্ধার হয় গন্ডারটি। এ ছাড়াও ২৭টি জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার হয়। যার মধ্যে আছে সোনার কুমির, মোষ, বিড়াল, রাজদণ্ড, বাজুবন্ধ, বালা, পুঁতি ও মুকুটও উদ্ধার হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার ছিল স্বর্ণ গন্ডার। কাঠের তৈরি কাঠামোর ওপর সোনার কয়েকটি পাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বসিয়ে তৈরি হয়েছিল এটি। ১৯৯৯ সালে জাতীয় সম্পদের মর্যাদা দেওয়া হয় গন্ডারটিকে।

এশিয়া ও মিসরের সঙ্গে মাপুঙ্গুবের নানারকম বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। আর গন্ডারটি আফ্রিকার কোনো শিল্পীর তৈরি, না বাণিজ্যের মাধ্যমে এসেছিল- তা জানা যায়নি। সমাধির সঙ্গে গন্ডার দেওয়ার রীতি ছিল কিনা, তাও অজ্ঞাত। এখনো চলছে এই গন্ডার নিয়ে গবেষণা।

ইউরোপীয়রা আসার অন্তত হাজার বছর আগে থেকে কৃষ্ণাঙ্গরা ওই এলাকায় বসবাস করতেন, এটা যদিও নিশ্চিত করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরাও।

আফ্রিকার সর্বোচ্চ সম্মানের মধ্যে চারটি শ্রেণি রয়েছে, এর মধ্যে প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। সেই পুরস্কারেও রয়েছে স্বর্ণ গন্ডারের ছবি।

২০১৬ সালে প্রথমবার ব্রিটিশ মিউজিয়ামে গন্ডারটি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছিল। টানা এক বছর চলে সেই প্রদর্শনী। সঙ্গে ছিল অন্যান্য প্রাচীন সামগ্রীও। সম্প্রতি স্বর্ণ গন্ডারের আরও একটি প্রদর্শনীর কথা শোনা যায়।