মা দিবসের বাণিজ্যিকীকরণের প্রতিবাদেই মারা যান এর প্রতিষ্ঠাতা|142092|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ মে, ২০১৯ ২৩:৫৮
মা দিবসের বাণিজ্যিকীকরণের প্রতিবাদেই মারা যান এর প্রতিষ্ঠাতা
অনলাইন ডেস্ক

মা দিবসের বাণিজ্যিকীকরণের প্রতিবাদেই মারা যান এর প্রতিষ্ঠাতা

মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার সারা বিশ্ব জুড়েই মা দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করা হয়। এই মা দিবসের নেপথ্যের নারী হলেন অ্যানা জারভিস (Anna Jarvis) নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক স্কুল শিক্ষিকা। মা দিবসের প্রতিষ্ঠাতা হয়েও, এই দিনটি অত্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার পর তিনি এর প্রতিবাদেই মারা যান।

১৯০৫ সালে নিজের মায়ের মৃত্যুর পর আনা জারভিস মাকে চিরন্তন শ্রদ্ধা জানাতে এই দিনটি সামনে আনেন। মায়ের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে, আনা জারভিস তার পশ্চিম ভার্জিনিয়া শহরের বাড়িতে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় ৫০০ টি সাদা কার্নেশন কিনেছিলেন। তিনি মা দিবসকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির দিন হিসেবে অভিহিত করার জন্য প্রচার চালান।

অ্যানার মা অ্যান রিভেস জারভিস, একজন শান্তিকর্মী ছিলেন। অ্যান জারভিস আমেরিকার গৃহযুদ্ধের উভয় পক্ষের আহত সৈন্যদের যত্ন নিয়েছিলেন এবং মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব তৈরি করেছিলেন মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য।

১৯১৪ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ঘোষণা করেন, মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস, এই দিনটিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবেও ঘোষণা করেন তিনি। অনেকেই মনে করেন, আজকের দিনে মা দিবস ও এই দিনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যানা জারভিস সবকিছুরই বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছে।

১৯২০'র দশকের প্রথম দিকে কার্ড কোম্পানিগুলি মা দিবসের কার্ড বিক্রি শুরু করে। অ্যানা জারভিসের বিশ্বাস, এই বিষয়গুলি মাদার্স ডে'র বিষয়টিকেই বাণিজ্যিক করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “কার্ড দিয়ে দেওয়া মানে, যে মানুষটা আপনার জন্য সারা জীবন সব কিছু করে গেল, সবথেকে আগলে রাখল, তার জন্য নিজের মন থেকে একটা বাক্যও আপনি লিখলেন না, দায়সারা একটা কার্ড দিয়ে ভালোবাসা জানালেন।”

এই বিশেষ দিনের বাণিজ্যিকীকরণের পর, অ্যানা জারভিস মাদার্স ডে বয়কটের ডাক দেন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হুমকিও দেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি সভায় এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানান।

অন্যরা এই বিশেষ দিন থেকে মুনাফা বাড়াতে চাইলেও অ্যানার জারভিস এই প্রচেষ্টার মূল অর্থ ধরে রাখতে গিয়ে নিজে অর্থ কষ্টের মধ্যে পড়েন। তার কমিটি তাকে সমর্থন করে এবং তার অসুস্থতার সময়েও এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ১৯৪৮ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি প্রয়াত হন।