শ্রীলঙ্কায় দাঙ্গায় আক্রান্ত মুসলিমরা, কারফিউ জারি|142303|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ মে, ২০১৯ ২৩:০৭
শ্রীলঙ্কায় দাঙ্গায় আক্রান্ত মুসলিমরা, কারফিউ জারি
অনলাইন ডেস্ক

শ্রীলঙ্কায় দাঙ্গায় আক্রান্ত মুসলিমরা, কারফিউ জারি

মুসলিমদের নিরাপত্তায় শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: এএফপি

শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে সোমবার কলম্বোয় উত্তরের কয়েকটি জেলায় এ সহিংসতা সৃষ্টি হয়।

এনডিটিভি জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে সরকার। এ ছাড়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

জানা যায়, ফেসবুকে শুরু হওয়া বিতর্কের জের ধরে একদল লোক চিলো শহরের একটি মসজিদে ও মুসলিমদের মালিকানাধীন দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি জেলায় মুসলিমরা আক্রান্ত হয়।

পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা বলেন, ‘সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চিলোর পুলিশ এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে যা ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে।’

রবিবার পশ্চিম উপকূলের শহরটিতে এ ঘটনার পর চিলো পুলিশের আওতাধীন এলাকাজুড়ে সোমবার ভোর পর্যন্ত কারফিউ জারি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যার ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত্র সেই আব্দুল হামিদ মোহাম্মদ হাসমারকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

আব্দুল হামিদ মোহাম্মদ হাসমার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আমাদের কাঁদানো কঠিন। বেশি হেসো না, একদিন তোমরা কাঁদবে।’ হাসমার খ্রিস্টান প্রধান শহর চিলোর স্থানীয় বাসিন্দা।

অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েক ডজন যুবক নিউ হাসমারস নামের একটি কাপড়ের দোকান লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে আর চিৎকার করছে। ওই দোকানটি গ্রেপ্তার হাসমারের বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

পুলিশ জানায়, মুসলিমদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে রবিবার রাতে ও সোমবারের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কুলিয়াপিটিয়া ও ডুম্মালাসুরিয়ার নিকটবর্তী এলাকাগুলো থেকে একটি দলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এরপর ওই এলাকার লোকজন গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায় বলে জানান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সুমিথ আতাপাত্তু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়ে বলেও তিনি জানান।

তিন সপ্তাহ আগে শ্রীলঙ্কায় চারটি হোটেল ও তিনটি গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয় ২৫৩ জন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করে। স্থানীয় জঙ্গিরা ভয়াবহ এ হামলা চালায়।

এ ঘটনার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে হেনস্তা করার বহু অভিযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির মুসলিম গোষ্ঠীগুলো।