এই দিনে ২০ মে|143609|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ মে, ২০১৯ ০০:০০
এই দিনে ২০ মে

এই দিনে  ২০ মে

বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদ ২০১২ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯২২ সালের ২৩ জুন কলকাতার ভবানীপুরের নন্দন রোডে পিতৃগৃহে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ মতিনউদ্দিন, মায়ের নাম বিবি জমিলা খাতুন। কলকাতার পদ্মপুকুর হাই স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পর ১৯৩৬ সালে তিনি কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থাতেই সাঁওতাল পরগনার দুমকা অঞ্চলে আঁকা চিত্রমালা শিল্পী হিসেবে তাকে খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৪২ সালে তিনি চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতক সমাপ্ত করেন এবং জলরং ও তেলরংয়ের পাশাপাশি কাঠখোদাই মাধ্যমটি গভীরভাবে রপ্ত করেন। সেখান থেকেই ১৯৪৬ সালে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন। সফিউদ্দীন আহমেদ চল্লিশের দশক থেকেই চিত্রকর হিসেবে খ্যাতিমান। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের এই সহযাত্রী ১৯৪৮ সালে ঢাকায় সরকারি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশের ছাপচিত্রকলার তিনিই শিল্পগুরু। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে শিক্ষকতায় যোগ দিয়ে, ঢাকার আর্ট স্কুলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হওয়ার পর, ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন তিনি। ১৯৫৮ সালে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস থেকে এচিং ও এনগ্রেভিংয়ে সম্মানের সঙ্গে ডিপ্লোমা লাভ করেন। তিনি দেশে-বিদেশে বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশ নেন এবং দেশে-বিদেশের বহু খ্যাতনামা জাদুঘর ও সংগ্রহশালায় তার শিল্পকর্ম রয়েছে। ১৯৪৫ সালে কলকাতা একাডেমি অব ফাইন আর্টসের ‘একাডেমি প্রেসিডেন্ট পদক’, ১৯৪৭ সালে ভারতের ‘দ্বারভাঙ্গা মহারাজার স্বর্ণপদক’ এবং ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সরকারের ‘প্রেসিডেন্ট পদক’ লাভ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে চারুকলায় অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন। ২০০৮ সালে ৮৬তম জন্মবার্ষিকীতে বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টসের উদ্যোগে বাংলাদেশে তার প্রথম একক প্রদর্শনী হয়। পরে ২০১০ সালে তার সৃষ্টিসমগ্র নিয়ে ‘শিল্পের অশেষ আলো’ শিরোনামে দুই পর্বে দুটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিল্পগুরু অভিধায় ভূষিত সফিউদ্দীন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের চারুশিল্পের ভুবনে এক মহীরুহের মতো ছায়া বিলিয়ে গেছেন। আশি পেরিয়েও শিল্পচর্চায় সক্রিয় ছিলেন এই কর্মবীর। বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প-আন্দোলনের এই পুরোধা শিল্পী ২০১২ সালের ২০ মে মৃত্যুবরণ করেন।