কোন্দল মিটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা|143639|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ মে, ২০১৯ ০০:০০
দিনাজপুরে বিএনপির কাউন্সিল-তৎপরতা
কোন্দল মিটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
আব্দুল মোমেন, দিনাজপুর

কোন্দল মিটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

এক সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল দিনাজপুর জেলা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় বোন সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হক ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির অভিভাবক। সেই সময় দিনাজপুর জেলা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দিনাজপুরে রাজপথে সক্রিয় আছে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে অভিভাবকশূন্যতা কাটিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বেগবান করতে কাউন্সিল দিয়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে জেলা বিএনপি।

২০০৬ সালে খুরশীদ জাহান হক মারা যাওয়ার পর থেকেই জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করে। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের একটিতেও জয়ী হতে পারেননি বিএনপির প্রার্থীরা। তবে ২০১৪ সালে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে বিএনপির বর্তমান এই অবস্থার পেছনে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনের একটিতেও জয়ের মুখ না দেখলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দলটি। উপজেলা কমিটিগুলোকে পুনর্গঠন করছে জেলা বিএনপি। জানা যায়, দলীয় কোন্দল মিটিয়ে সব ইউনিটের কাউন্সিল করে জেলা কাউন্সিল করার নির্দেশনা আছে দলের হাইকমান্ডের।

কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রে এবং জেলার নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। খানসামা উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী শাহরিয়ার জামান নিপুণ বলেন, ‘আমাদের উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলছে। খানসামা উপজেলাতে আগামী ২১ তারিখ কাউন্সিল হবে। আমাদের কাউন্সিলগুলো হলেই আমরা আরও চাঙ্গা হব।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিনাজপুর জেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় এতদিন কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে জেলায় ২২টি ইউনিটের মধ্যে ১৪টি ইউনিটে কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

জেলা বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দল গুছিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করছি। আমাদের যেসব উপজেলায় কাউন্সিল ছিল না আমরা সেগুলোতে দ্রুত কাউন্সিল দিচ্ছি।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ জেড এম রেজওয়ানুল হক অসুস্থ থাকায় তার পরিবর্তে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন যুগ্ম আহ্বায়ক রেজিনা ইসলাম। রেজিনা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানো শেষ হলেই আমরা জেলা সম্মেলন করব।’