বিদায় আরবান নকশাল গিরিশ কারনাড|147827|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ জুন, ২০১৯ ১৫:০৯
বিদায় আরবান নকশাল গিরিশ কারনাড
অনলাইন ডেস্ক

বিদায় আরবান নকশাল গিরিশ কারনাড

শুধু পর্দা নয়, বাস্তব জীবনেও অনেক মানুষের ‘নায়ক’ তথা অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন সদ্য প্রয়াত গিরিশ কারনাড। এই স্পষ্টভাষী ও প্রাণখোলা মানুষটি নিজেকে ‘আরবান নকশাল’ বলতে দ্বিধাবোধ করেননি।

গিরীশ সামনে থেকে নেতৃত্ব নিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তিনি মুখ খুলছিলেন। সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের সঙ্গে হৃদ্যতা ছিল তার। লঙ্কেশের খুনের পর অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তাই বাড়ানো হয়েছিল পুলিশের তরফে। তার মধ্যে কারনাডও ছিলেন।

ধর্ম ও জাতপাতের বিরুদ্ধে গিয়ে তার নাটকে বরাবর উঠে এসেছে সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা। মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে সামাজিক সমস্যা, অবক্ষয় ও রাজনৈতিক নেতিবাচক দিকগুলো।

সর্বশেষ কয়েক বছরে মূলধারার বেশ কিছু বলিউড সিনেমায় অভিনয় করেন গিরীশ কারনাড। অভিনয়ের ক্ষুধা এতই ছিল যে- এই সব ছবিতে নাকে অক্সিজেন নল লাগিয়েও কাজ করেছেন।

সোমবার বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়িতেই বার্ধক্যজনিত কারণেই ৮১ বছর বয়সে মারা যান কারনাড। তাকে হারানোর সঙ্গে বিরাট শূন্যতা নেমে এসেছে মারাঠি নাট্যজগতে। সমাপ্ত হয়েছে একটি অধ্যায়ের। বলা হয়, মারাঠি নাটক তার হাত ধরেই যৌবনে পদার্পণ করেছে। তার দেখানো পথেই আজ এতটা জনপ্রিয়তায় পৌঁছেছে স্থানীয় নাটক। 

কারনাডের মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই কর্ণাটকে তিন দিনের শোক দিবস ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারাস্বামী। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে একদিনের ছুটিও ঘোষিত হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে শোকবার্তায় লেখেন, “গিরিশ কারনাডের মতো অভিনেতার সারা জীবন মনে রাখবেন সবাই। নিজের ভালোবাসা নিয়ে সব সময়ই খোলা মনে কথা বলতেন তিনি। কাজের মধ্যে দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।”

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ লেখেন, “ভারতীয় থিয়েটার জগতের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। তার প্রয়াণে আরও শূন্য হলো শিল্পী মহল। তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি রইল।”

অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অভিনেতা কমল হাসান, পরিচালক আলী আব্বাস জাফর, অভিনেত্রী দিব্যা দত্ত, অভিনেতা প্রকাশ রাজ-সহ অনেকে এ গুণী ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকাহত। শ্রদ্ধা জানিয়েছে কংগ্রেসও।

একাধিক সিনেমাও পরিচালনা করেছিলেন কারনাড। এর মধ্যে রয়েছে অনেক কন্নড় ও মারাঠি ছবি। তবে বেশির ভাগ ছবিতেই চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সেরা পরিচালক হিসেবে ১৯৭১ সালে কন্নড় ছবি ‘ভামসা ভ্রিক্ষা’র জন্য তিনি পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার। আরও নয়টি জাতীয় পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে।

১৯৭০ সালে ‘সংস্কারা’ নামে কন্নড় ছবিতে তার অভিনেতা হিসেবে অভিষেক হয়। এরপর মন্থন (১৯৭৬), পুকার (২০০০), ইকবাল (২০০৫), ডর (২০০৬) ও এক থা টাইগারের (২০১২) মতো হিন্দি ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে সুনাম কুড়ান।

সাহিত্য জগতে গিরিশ কারনাডের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ‘জ্ঞানপীঠ’ পেয়েছেন তিনি। কালিদাস সম্মান, কন্নড় সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি থেকেও পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলসের ইউনিভার্সিটি অফ সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকেও তিনি সম্মানিত হয়েছিলেন। পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ সম্মানেও ভূষিত হন।

কন্নড় ভাষায় কারনাডের লেখা ‘অঞ্জু মাল্লিগে’ নাটকটি তুমুল জনপ্রিয়। নাটকটি হিন্দিতে অনুবাদ করেন দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার শিক্ষক দেবেন্দ্ররাজ অঙ্কুর। হিন্দি থেকে বিশ্ব রায় ‘যামিনী’ নাম দিয়ে বাংলা অনুবাদ করেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নাকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। এ ছাড়া তার যযাতি, তুঘলক, নাগমণ্ডল, হয়বদন’সহ আরও বেশ কয়েকটি নাটক এদেশে হয়েছে।