টানা আট কার্যদিবস সূচক বাড়ল|148100|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০
বাজেটে প্রণোদনার প্রত্যাশা
টানা আট কার্যদিবস সূচক বাড়ল
নিজস্ব প্রতিবেদক

 টানা আট কার্যদিবস সূচক বাড়ল

আসন্ন বাজেটে প্রণোদনার আশায় পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচকে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। ঈদের আগে থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত টানা আট কার্যদিবস সব ধরনের সূচক বেড়েছে। লেনদেন পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৫৭৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়, যা গত তিন মাসে সর্বোচ্চ।

চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে টানা মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেনি সরকার। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বন্ড মার্কেট চালুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা অপসারণ করে কর সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশের ক্ষেত্রে দ্বৈতকর পরিহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা দ্বিগুণ করা হতে পারে। এ ছাড়া বস্ত্র খাত আলাদা সুবিধা পেতে পারে।

এরই মধ্যে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিশেষ করে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগ বাদ দিয়ে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা গণনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে করে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ ৮২ শতাংশ বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় ৮৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিকে। এসব উদ্যোগ ও আসন্ন বাজেটে প্রণোদনার প্রত্যাশায় পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় ৬৪ শতাংশ সিকিউরিটিজের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচকটি বেড়েছে ৪৪ পয়েন্ট। এ নিয়ে ঈদের আগে ও পরে টানা আট কার্যদিবসে সূচকটি বেড়েছে ২২৫ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। ১৪ মার্চের পর গতকালই ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে।

এদিকে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় সৃষ্ট খেলাপি ঋণ খাতটিকে সংকটময় পরিস্থিতিতে নিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর ফলে সঞ্চিতির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ব্যাংকের মুনাফা কমিয়ে দিচ্ছে। খেলাপি বাড়ায় তারল্য পরিস্থিতিরও অবনতি হচ্ছে। যদিও অর্থনীতির অন্যান্য শাখায় ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। বস্ত্র খাতের ওপর নির্ভর করে মে মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড হয়েছে। তবে ব্যাংক ব্যবস্থায় যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ করে পুঁজিবাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তারল্য সংকটের কারণে সুযোগ থাকার পরও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক দিনের মতো মঙ্গলবারও লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় এবং দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৭৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়। সূচক বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বিবিএস ক্যাবলস, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বিএটি বাংলাদেশ, আইসিবি, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইফাদ অটোস। এসব কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ডিএসইএক্স সূচকে প্রায় ৩৫ পয়েন্ট যোগ করেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের। গতকাল এ খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। টেলিযোগাযোগ খাতের দর বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া  প্রকৌশল, ব্যাংক, জ¦ালানি, খাদ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, বস্ত্র ও সিমেন্ট খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ থেকে ১ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত। বিপরীতে জীবন বীমা ও ট্যানারি খাত বাজার মূলধন হারিয়েছে।

গতকাল দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ। এ কোম্পানির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এর বাইরে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, জিলবাংলা, সোনালী আঁশ, নিউ লাইন ক্লথিং, জেমিনি সী ফুড, জেএমআই সিরিঞ্জ, আরামিট, জাহিন স্পিনিং ছিল দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায়।