বৃষ্টির বিশ্বকাপ|148140|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০
বৃষ্টির বিশ্বকাপ
ক্রীড়া ডেস্ক

বৃষ্টির বিশ্বকাপ

ব্রিস্টলের জন্য এটা বড় এক দিন। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ ম্যাচ এই নগরে। কিন্তু গতকালের আগেই সবাই জেনে গেছেন খেলাটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ব্রিস্টল পোস্ট অনলাইন ওয়েদার আপডেট দিচ্ছে এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে আগের দিন থেকেই। ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা। কিন্তু ব্রিস্টল পোস্ট সকাল ৭টা ৮ মিনিটে জানিয়ে দেয়, ‘আবহাওয়া অফিস গোটা দিনজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলছে। সকাল ৯টা থেকে প্রচণ্ড বৃষ্টির ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা।’

বাস্তবে ঘটেছেও তাই। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত সংবাদপত্র এই ম্যাচের লাইভ আপডেটে একটা ছবি ব্যবহার করেছে। যেখানে বাংলাদেশের সমর্থকরা ঘণ্টা দুয়েক আগেই ম্যাঠের বাইরে হাজির। প্রচণ্ড আশাবাদী তারা। একজনের হাতে বাংলায় লেখা প্ল্যাকার্ড, ‘মা আমি এখানে। হয়তো জিতব। নয়তো শিখব।’

কিন্তু সবার জন্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হতাশা। কাট আউট টাইমে বোঝা যায়, বৃষ্টির দয়া হলেও কার্টল ওভারের ম্যাচ সম্ভব নয়। আউটফিল্ডের অবস্থা ভালো না। তাই রেকর্ড গড়ে ফেলে ২০১৯ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ নিয়ে তিনটি পরিত্যক্ত হলো। এবারের আসরে মোট ৪৮ ম্যাচ। এখন পর্যন্ত ১৬টির তিনটির অবস্থা যদি এই হয় তাহলে সামনে কী আছে?

ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিনিধিরা মাঠে বসে বুঝতে পারছিলেন খেলার সম্ভাবনা নেই। প্রেস বক্সও অনেকটা খালি। তাদের শ্রীলঙ্কার রিপোর্টার বিস্মিত এই ভেবে যে, গ্যালারিতে তো সমর্থকের সংখ্যা নেহায়েত কম না! টানা বৃষ্টির মাঝেও আশাবাদী-সাহসী শ-তিনেক হৃদয় বসে। এই প্রচণ্ড বৃষ্টি এড়িয়েও শেষ পর্যন্ত যদি ২০ ওভারের খেলা হয়! তাও তো অনেক!

এটা ইংলিশ সামার। ইংরেজদের সবচেয়ে প্রিয় মৌসুম। সারাটা বছর অপেক্ষায় থাকেন মে মাস শেষ হয়ে কখন জুন শুরু হবে। আর ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মৌসুমও আসলে জুন-জুলাই-আগস্টের। সামারের। কিন্তু ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি কী করবে বলুন তো? বলা হচ্ছে, এটা ইংল্যান্ডের অন্যতম ভেজা আবহাওয়ার জুন মাস। একটি ওয়েবসাইটে প্রশ্ন, ‘ইংল্যান্ডের আবহাওয়া এমন আনপ্রেডিক্টেবল জেনেও কেন সেখানে এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি?’ গ্রীষ্মেও বর্ষার এমন প্রভাবের কথা আইসিসি বা কীভাবে কয়েক বছর আগে জানবে! সহানুভূতি তো তাদের জন্যও।

বৃষ্টি কখনো একটু কমলে বা সামান্য সময়ের জন্য থামলে সমর্থকরা আশাবাদী হয়ে ওঠেন। আম্পায়ারদের মাঠ পর্যবেক্ষণের সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বৃষ্টির কারণে আর তা হয়ে ওঠে না। এভাবেই চলতে থাকে। একজন ব্রিস্টল নাগরিকের আক্ষেপ, ‘ভাগ্যটা বড় মন্দ। ভুল সময়ে এমন বাজে আবহাওয়া চলে এলো।’ সত্যি তাই। ১৯৯৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এমন আবহাওয়ার কথা মনে করতে পারছেন না কেউ। আবহাওয়ার কারণে এর আগের ১১ বিশ্বকাপের কোনোটিতে দুটির বেশি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়নি। সেগুলো ১৯৯২, ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালের ঘটনা। ২০০৩ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি ম্যাচ দ্বিতীয় ইনিংস চলাকালে বৃষ্টি নামায় পণ্ড হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডে বৃষ্টি কয়েকটা ম্যাচকে বেশ জ্বালিয়েছে। শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির প্রভাব থাকলেও ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে লঙ্কানরা জিতেছিল। এই ব্রিস্টলেই শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচ বৃষ্টির কারণে মাঠে গড়ায়নি। পরশু সাউদাম্পটনে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলাটা হতে পেরেছে মাত্র ৭.৩ ওভার। বোঝা যাচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে পণ্ড ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা যথেষ্ট।

আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার সংবাদে ঢু মারলে দেখবেন ১৩ জুন ট্রেন্ট ব্রিজে ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচও বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হতে পারে। আজ টনটনে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচের সময় আকাশের গুমোট থাকার কথা। দুপুরের দিকে বৃষ্টি নামতে পারে। শুক্রবার সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ ম্যাচের সকাল পেরোতেই বৃষ্টির শঙ্কা। শনিবার দ্য ওভালে শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের শুরুর মেঘলা আকাশ পরে সূর্যস্নাত দুপুরে রূপ নিতে পারে। এদিন কার্ডিফে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তানের ম্যাচের ব্যাপারেও আবহাওয়া পেছনের কথাটাই বলছে।

কিন্তু বিশ্বকাপ তো দীর্ঘ। সেমিফাইনালের আগে রিজার্ভ ডে নেই। বৃষ্টির নিষ্ঠুরতায় পয়েন্ট ভাগাভাগির নির্মম খেলা কাকে যে শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবান আর কাকে দুর্ভাগা বানিয়ে ছাড়ে! ১৯৯২-তে দক্ষিণ আফ্রিকার কী পরিণতি হয়েছিল তা ভুলে যাননি নিশ্চয়ই কেউ।