বাংলাদেশের ‘শাপেবর’ হতে পারে|148142|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০
বাংলাদেশের ‘শাপেবর’ হতে পারে

বাংলাদেশের ‘শাপেবর’ হতে পারে

খুব আগ্রহ নিয়ে গতকাল ব্রিস্টলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত মনটা খুব খারাপ হলো। দুঃখজনক আসলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটাতে জয় আমাদের জন্য যে কি দরকার ছিল! একটা পয়েন্ট হারাতে হলো। তবু প্রবাদ আছে ‘শাপেবর’। বৃষ্টিতে ম্যাচটা ভেসে গেলেও এই ঘটনা আমাদের জন্য সামনে সেই শাপেবর হতেই পারে।

এখন আমাদের জন্য সব ম্যাচই ‘ডু অর ডাই’। সামনে প্রতিপক্ষ কে সেদিকে আর তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন সরাসরি জয় ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আমাদের পরের ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, টনটনে। ১৭ তারিখ। মাঝে কয়েকটা দিন বাংলাদেশ দল সময় পেল। এই সময়টা খেলোয়াড় হিসেবে আমি জানি কতটা কাজে আসে কখনো কখনো। মন্দের ভেতর থেকে বাস্তবিক ভালো খুঁজে নিতে গিয়ে দেখছি, এখানে একটা পয়েন্ট পাওয়ার পর পরের ম্যাচে আমরা যদি হেরে যাই তাহলে আর কামব্যাক করার সুযোগ নেই বলতে গেলে।

এখন আমাদের যে গ্যাপ আছে সেটা কাজে লাগানোর চমৎকার সুযোগ। সাকিব আল হাসানের একটা ইনজুরি আছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার সামনের ম্যাচে তাকে আমরা ফিরে পাব। এছাড়া আছে ক্যালকুলেশনের বিষয়। লম্বা সফরে বের হলে খেলোয়াড়দের মাথার ভেতরে নানা জিনিস কাজ করতে থাকে। সমস্যা থাকে। এখন সপ্তাহ খানেকের এই গ্যাপ বাংলাদেশ দলকে মানসিকভাবে আরও শক্ত হয়ে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে।

ব্রিস্টল থেকে টনটনে ট্রাভেল আছে। গতকালের দিনটা তো বিশ্রামেই গেল। আমি নিশ্চিত, খেলোয়াড়রা আগামী দিনদুয়েক ক্রিকেট থেকে সরে ঘোরাফেরার মধ্যে থাকবে। এদিক-ওদিক হয়তো ঘুরবে। মন চাঙ্গা করবে। নিজেদের হালকা করে নেওয়ার সুযোগ সেখানে।

খেলোয়াড় হিসেবে আমি নিজেও জানি যখন এরকম গ্যাপ থাকে তখন কোচরাই আমাদের বলে দেন, ক্রিকেট নিয়ে আমরা যেন একদমই চিন্তা না করি। কারণ চার ম্যাচে মোটে একটা জেতায় দল মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। তাদের উদ্দীপ্ত ও হালকা করতে কোচ স্টিভ রোডস নিশ্চিতভাবে ওদের বলবেন, খেলার ভাবনা থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখে তারপর ভালোভাবে কামব্যাক করতে।

এছাড়া আরও অনেক বড় একটা ব্যাপার আছে। মাঝে আমাদের ছোটখাটো যেসব ভুলত্রুটি হয়েছে তা ভালোভাবে শুধরে নেওয়ার সুযোগ মিলবে। ছোটখাটো এমন অনেক ব্যাপারই থাকে। যেমন ফিল্ডিং নিয়ে কাজ করা যাবে যেটা আমাদের খারাপ হয়েছে শেষ ম্যাচে। এবং ভাবনায় ঢুকে গেছে যা। ব্যাটিংয়ে কোথায় কী সমস্যা আছে তা বিশ্লেষণ করতে অ্যানালিস্টকে নিয়ে যথেষ্ট সময় কাটানো সম্ভব হবে। নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে খেলোয়াড়রা আলোচনা করতে পারবে। এর সঙ্গে নেটে আলাদাভাবে ব্যাটসম্যান-বোলাররা কাজ করতে পারবেন।

এই গ্যাপটা একদিক থেকে মনে হয় মন্দ হবে না। মনের দিক দিয়ে এখন সবাই ফুরফুরে-চনমনে হয়ে উঠলে সেটা সামনে বাংলাদেশ দলের জন্য ভালোই হবে।