জামের বাজার জমজমাট|148332|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০
জামের বাজার জমজমাট
মহিদুল ইসলাম, ঈশ্বরদী

জামের বাজার জমজমাট

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের টসটসে ফলের সমারোহে জাম নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মুলাডুলি ফলের আড়তে এখন চলছে জামের রাজত্ব। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি আড়তে প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে কয়েক ট্রাক পাকা জাম। এসব জাম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

গত মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের অন্যতম ফল ও সবজি আড়ত মুলাডুলিতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় বিভিন্ন ঝুড়িতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পাকা জাম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি।

জাম বিক্রেতা হারেজ উদ্দিন জানান, বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছের জাম সংগ্রহ করে ২০-৩০ কেজি আড়তে এনে বিক্রি করেন। মুলাডুলি আড়তের আড়তদার আমিনুর রহমান জানান, জামের বাজার স্থায়ী হয় মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন। এই সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে পাইকাররা মুলাডুলি আড়তে আসেন জাম কিনতে। পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা এবং নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম ও লালপুর উপজেলা থেকে সবচেয়ে বেশি জাম এ আড়তে সরবরাহ করা হয়।

জাম ব্যবসায়ীরা জানান, মুলাডুলির এই আড়ত থেকে প্রতিদিন ৮-১০ ট্রাক জাম দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। মৌসুমের শুরুতে আড়তে প্রতি কেজি জাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন প্রতি কেজি জাম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

মুলাডুলি আড়তদার সমিতির সভাপতি আবদুল হামিদ জানান, অত্যন্ত যতœসহকারে জাম পরিবহন ও বাজারজাত করতে হয়। অল্পদিনের ব্যবসা হলেও জামের বাজার বেশ জমজমাট হয়। জাম ব্যবসার সঙ্গে মুলাডুলি-রাজাপুর এলাকার আশপাশের প্রায় ৩০০-৪০০ মানুষ সরাসরি জড়িত।

ঈশ্বরদী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, জাম অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির পানি পড়া মাত্রই জাম লাল বরণ হয়ে ওঠে। তারপর পরিপক্ব হয়ে ওঠে। তবে একসঙ্গে পেকে যাওয়ায় জামের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ খুব বেশিদিন থাকে না। স্বল্পকালীন এই ফলটি তাই সবার কাছেই বেশ লোভনীয়। বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় ভবিষ্যতে জাম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল লতিফ জানান, কৃষকের বাড়িতে কাঠের উদ্দেশ্যে লাগানো জামগাছে অযতেœ এ ফলটি বেড়ে ওঠে। জামগাছ বড় আকৃতির হওয়ায় এই ফলের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ কষ্টসাধ্য। ক্ষুদ্রাকৃতির ফল জামের বাণিজ্যিক চাষাবাদের কলাকৌশল নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।