বয়ঃসন্ধির সময়টাতে|148375|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০
বয়ঃসন্ধির সময়টাতে

বয়ঃসন্ধির সময়টাতে

সাধারণত বয়ঃসন্ধির সময় হরমোন এবং শারীরিক পরিবর্তনের কারণে ব্যক্তির ব্যবহারেও বেশ পরিবর্তন আসে। বয়ঃসন্ধির সময় যেসব শারীরিক পরিবর্তন ঘটে তাও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটায়। চলমান শারীরিক পরিপূরক প্রক্রিয়া শিশুদের চাহিদা, আগ্রহ এবং মেজাজ পরিবর্তন করার জন্য সরাসরি শরীর ও মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। চিন্তা করে দেখুন আপনার ছেলেটি, যার ত্বক ছিল কোমল, গলার স্বর ছিল স্বাভাবিক। হঠাৎ তার গলার স্বর হয়ে গিয়েছে ভারী, মুখে দাড়ি অথবা এলো আরও কিছু শারীরিক পরিবর্তন। ঠিক তেমনি শারীরিক পরিবর্তন হয়েছে আপনার মেয়ে সন্তানটিরও। যেই মেয়েটি আগে হয়তো খুব হই-হুল্লোড় করে বেড়াত, সেই মেয়েটি তার নিজের পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না। শারীরিক পরিবর্তনটি আপনি চোখে দেখছেন, মানসিক পরিবর্তন কি দেখতে পারছেন? আপনি হয়তো দেখছেন আপনার সন্তানটি হঠাৎ করে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে গিয়েছে, আপনার বেশিরভাগ কথাতে রিঅ্যাক্ট করছে, অনেক সময় মিথ্যা বলছে কিছু নিয়ে, লুকাচ্ছে কোনো বিষয়, যেই বন্ধুদের সঙ্গে হয়তো আপনি বলছেন কম মিশতে তাদের সঙ্গেই বেশি মিশছে, তর্ক করছে কারণে-অকারণে। একই বাড়িতে থেকে মানসিকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে সন্তানের সঙ্গে। পরিবার এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার সন্তানের সম্পর্ক নাটকীয় পরিবর্তন এবং বদল আপনাকে হয়তো ভাবাচ্ছে কিন্তু আপনিও হয়তো বুঝতে পারছেন না কী করবেন। আপনি হয়তো লক্ষ করবেন যে আপনার সন্তান তার পরিবারের সঙ্গে কম সময় ব্যয় করতে চায় এবং তার বন্ধুদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চায়। কিশোর বয়সে বাবা-মায়েদের এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে কিছু দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক, কারণ শিশুরা তখন আরও স্বাধীনতা চায়। কিশোর বয়সে অতিরিক্ত মেজাজ দেখানোর অন্যতম একটি কারণ হলো তাদের মস্তিষ্ক ও শারীরিক পরিপক্বতা। শিশুদের ২০ বছরের মধ্যে যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়, এই অসম্পূর্ণ মস্তিষ্কের উন্নয়নগুলো অনেক জ্ঞানীয় এবং মানসিক অস্পষ্টতার জন্য দায়ী, যার জন্য বাবা-মা সহজে হতাশ হতে পারেন। মাতা-পিতাকে তাদের সন্তানদের এই অপ্রাপ্ত মস্তিষ্কের গঠন, ঘুম পরিবর্তন এবং পরিবর্তিত হরমোন এবং মানসিক ও জ্ঞানীয় অপরিচ্ছন্নতা বুঝতে হবে। আপনার হয়তো মনে হতে পারে যে আপনার সন্তান এখন আপনার থেকে ভিন্নভাবে কিছু দেখতে শিখছে। একটা ১৪ থেকে ১৫ বছরের ছেলে বা মেয়ের কাছ থেকে আপনি কিন্তু পরিপূর্ণ বয়সের মানুষের ব্যবহার আশা করতে পারেন না। যে ছেলে বা মেয়েটি নিজেই সন্দিহান তার পরিবর্তনগুলো নিয়ে, তার কাছ থেকে পরিপক্ব ব্যবহার আশা করাটা কি বোকামি না? পরিবার, মা-বাবা কিন্তু সন্তানের সবচেয়ে আস্থার জায়গা। এই কথাটি আপনার কিশোর বয়সের সন্তানের কাছে বোধগম্য হবে না, এটাই স্বাভাবিক। শুধু কথায় না বরং কথায় এবং কাজের সংমিশ্রণে সন্তানকে বুঝান এই ব্যাপারটি। বন্ধুসুলভ আচরণই পারে প্রিয় সন্তানের জীবনের এই কঠিন সময়টিকে সুন্দর করে তুলতে।