রিজভী উচ্ছেদচেষ্টার নেপথ্যে এ্যানী!|148425|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০
রিজভী উচ্ছেদচেষ্টার নেপথ্যে এ্যানী!
রেজাউল করিম লাবলু

রিজভী উচ্ছেদচেষ্টার নেপথ্যে এ্যানী!

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে বের করে দিয়ে সেখানকার দখল নেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, এজন্য বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতাদের দিয়ে গত মঙ্গলবার দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়; যাতে অসুস্থ রিজভী আর দপ্তরে থাকতে না পারেন। তবে রিজভীসহ তার পক্ষের নেতারা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা।

বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের মধ্যে ক্ষোভের সূত্রপাত হয় নতুন কমিটি গঠনে বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার পর। বলা হয়, ২০০০ সালে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা কমিটিতে থাকতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে কয়েকশ ছাত্রনেতার রাজনৈতিক জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছেন রিজভী ও তার সমর্থকরা। এ জন্য তারা লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘ভুল বার্তা’ দিয়ে বয়সসীমার এ সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছেন। এ নিয়েই বিক্ষুব্ধ ছাত্রনেতাদের রোষানলে পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়া রিজভী। গত মঙ্গলবার অসুস্থ রিজভীকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বের করে হাসপাতালে ভর্তি করাতে অ্যাম্বুলেন্সও আনা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা ভেঙে দেওয়া কমিটির সহসভাপতি আজমল হোসেন পাইলট দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেন, রিজভী আহমদকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তাদের ছিল না। তবে আন্দোলনে অনেকেই এসেছিলেন। কার কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

বিক্ষুব্ধ নেতারা জানান, কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে তারা সেখানে অবস্থান নেন। এরপর কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা। তাদের কার্যালয়ে ঢুকতে দেননি বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা।

বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা আরও জানান, রিজভী ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমর্থকরা তাদের সঙ্গে আছেন। এসব সাবেক নেতার অনেকে আবার ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য যে তিনটি কমিটি করা হয়েছে তাতে রয়েছেন। তারাও রিজভীকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। এরই অংশ হিসেবে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। রিজভীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়। শেষ পর্যন্ত রিজভী রাজি না হওয়ায় জোর করে তাকে কার্যালয় থেকে বের করা হয়নি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ^র চন্দ্র রায় রিজভীকে দেখতে আসায়ও বিষয়টি ভেস্তে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যানী মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিক্ষুব্ধরা তো আমাকে অপমান করেছে, ধাক্কা দিয়েছে। ওরা ওদের স্বার্থের বাইরে গেলে যে কাউকে অপমান করে, যা-তা অভিযোগ করে। তাদের অভিযোগ সত্য নয়।