স্মার্টফোন, সিম ও মোবাইলের শুল্ককর কমানোর প্রস্তাব অ্যামটবের|149611|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০
টেলিযোগাযোগ খাত
স্মার্টফোন, সিম ও মোবাইলের শুল্ককর কমানোর প্রস্তাব অ্যামটবের
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্মার্টফোন, সিম ও মোবাইলের শুল্ককর কমানোর প্রস্তাব অ্যামটবের

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিম কার্ড, স্মার্টফোন ও মোবাইল অপারেটরদের আয়ের ওপর কর বাড়ানোর ফলে সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ করবৃদ্ধির ফলে প্রস্তাবিত বাজেটকে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রয়াসে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে মনে করে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল  টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। এসব বিবেচনায় সরকারকে টেলিযোগাযোগ খাতে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল বাজেটপরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় অ্যামটব।

হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোনে সিম ও রিম কার্ডের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। সিম কার্ডের ওপর আরোপিত শুল্ক ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার পাশাপাশি স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন কোম্পানির আয়ের ওপর সর্বনিম্ন শুল্ক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পুঞ্জীভূত মুনাফা বা আয়ের সঞ্চিতির ওপর ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অ্যামটব জানায়, বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান মুনাফা না করলেও মোট আয়ের ওপর ন্যূনতম শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলকভাবে কর প্রদান করছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যিÑ মোট আয়ের ওপর ন্যূনতম কর বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এ অবস্থায় অবিবেচনাপ্রসূত হারে করহার বৃদ্ধি ও নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপ ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়াটিকেই হুমকির মুখে ফেলবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আয়ের সঞ্চিতির ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ হারে করারোপ করায় তা পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় করপোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন করে আরোপিত এই করের বোঝা কমিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম রিজার্ভে অতিরিক্ত লভ্যাংশ প্রদানে বাধ্য করবে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ কমিয়ে আনবে। আয়ের সঞ্চিতির ওপর করারোপ মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর  দ্বৈত করারোপ করবে। যেহেতু এরই মধ্যে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিয়ে আসছে। আর নতুন করে আরোপিত করের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে।

সরকার দেশের অর্থনীতি ও ডিজিটাল বাংলাদেশের অবকাঠামোর মেরুদ- হিসেবে বিবেচিত  টেলিযোগাযোগ খাতকে সহায়তা করার স্থলে বরং প্রস্তাবিত কর ও শুল্ক কাঠামো আরোপের মাধ্যমে এই খাতটিকেই পঙ্গু করে দেবে বলে মনে করে অ্যামটব। এ বিষয়ে অ্যামটব মহাসচিব ব্র্রিগেডিয়ার জেনারেল  (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের রূপকল্প বাস্তবায়নে টেলিযোগাযোগ খাতের যা অবদান তা প্রস্তাবিত বাজেটে পুরোপুরিভাবে উপেক্ষিত হওয়ায় আমরা খুবই আশাহত। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান ৬ দশমিক ২ শতাংশের বেশি হলেও এ বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতে পুরো বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ কর-ভারের বিষয়টি এখন সর্বজনবিদিত।’ 

এস এম ফরহাদ বলেন, মোবাইল সেবা খাতে ৫ শতাংশ  থেকে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে তা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকেই বাধাগ্রস্ত করবে। এ ছাড়া নতুন সিম কার্ড ও প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত শুল্ক ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করায় নতুন গ্রাহকদের খরচের বোঝা দ্বিগুণ হারে বাড়বে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।

অ্যামটব জানায়, বাজেট ঘোষণার পূর্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এই খাত থেকে সিম ট্যাক্স ও মোবাইল সেবার ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাতিল করাসহ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছিল। এ ছাড়া অমুনাফাভোগী অপারেটরদের ন্যূনতম করপোরেট শুল্কহার কমিয়ে আনা ও পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে করহার ৫ শতাংশ হারে কমিয়ে আনা। আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়েও এনবিআরের কাছে প্রস্তাব রাখে অ্যামটব।

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশাবাদী  মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। এই খাতটি চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঘটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। এ জন্য এ খাতে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই অ্যামটবের প্রত্যাশা  দেশের অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান বিবেচনা করে আরোপিত কর ও শুল্ক কাঠামো ঢালাওভাবে পরিবর্তনের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতের সব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিপূরক ভূমিকা পালন করবে সরকার।