বিমানে সিবিএ নির্বাচন, জানে না মন্ত্রণালয়|149904|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ জুন, ২০১৯ ০০:০০
বিমানে সিবিএ নির্বাচন, জানে না মন্ত্রণালয়
আশরাফুল হক

বিমানে সিবিএ নির্বাচন, জানে না মন্ত্রণালয়

বিমানে অত্যাবশ্যকীয় সেবাকাল (এসেনশিয়াল সার্ভিস) চলার মধ্যে সিবিএ (কম্বাইন্ড বার্গেনিং এজেন্ট বা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে বিমান কর্র্তৃপক্ষকে সিবিএ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এ নির্বাচন নিয়ে কিছুই জানে না বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ২০১৭ সাল থেকে এসেনশিয়াল সার্ভিস চলছে। প্রথমে এক বছরের জন্য এ সার্ভিস চালু করা হলেও পরে দফায় দফায় এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এসেনশিয়াল সার্ভিস বহাল থাকার সময় কোনো সংস্থায় মিছিল-সমাবেশ করা যায় না। ধর্মঘট ডাকারও কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় এসেনশিয়াল সার্ভিসের মধ্যে সিবিএ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুহিবুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিমানে সিবিএ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আর এসেনশিয়াল সার্ভিসের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে কি না তা জেনে বলতে হবে।’

জানা গেছে, বিমানে সিবিএ নির্বাচনের জন্য বিমান শ্রমিক লীগ আবেদন করে। সেই আবেদন পাওয়ার পর শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গত ৩ জুন বিমানে কর্মরত বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কাছে সিবিএ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক কি না জানতে চেয়েছেন। ইচ্ছুক হলে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে মতামত জানাতেও বলেন।

একই দিনে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে সিবিএ নির্বাচনের ভোটার তালিকা তৈরির জন্য বিমানের বিভিন্ন অফিসের শ্রমিক কর্মচারীদের কেন্দ্রভিত্তিক তালিকা চায় শ্রম অধিদপ্তর। এ ছাড়া সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, টেলিফোন নম্বর ও ঠিকানা চাওয়া হয়। 

মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ বিমানের সব শ্রেণির চাকরি অত্যাবশ্যকীয় (এসেনশিয়াল) ঘোষণা করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এরপর বিমানে বা বিভিন্ন বিমানবন্দরে কোনো ধরনের ধর্মঘট না হলেও ছোটখাটো সমাবেশ হয়েছে। বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানের আড়ালে শ্রমিকরা সমবেত হয়েছেন। 

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো সিবিএর মেয়াদ দুই বছর। তবে সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে আগের সিবিএ দায়িত্ব পালন করতে পারে। বিমানে সিবিএ নির্বাচন হয়েছে তিন বছর আগে। এক বছর আগে মেয়াদ পার হলেও নতুন নির্বাচন আয়োজন করা যায়নি। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সিবিএ নির্বাচনের জন্য আবেদন করেছে। তবে এসেনশিয়াল সার্ভিস চলার সময় সভা-সমাবেশ করা যাবে না। তাই সিবিএ নির্বাচন উপলক্ষেও কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এবারের সিবিএ নির্বাচনের প্রচার চলবে সভা-সমাবেশ ছাড়াই।

বিমানের বর্তমান সিবিএর সভাপতি মশিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শ্রম অধিদপ্তরের চিঠি পেয়েছি। নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে শিডিউল ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, এসেনশিয়াল সার্ভিস সিবিএ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বাধা হতে পারে না। কারণ এসেনশিয়াল সার্ভিসের মধ্যেই পাইলটদের সংগঠন বাপা এবং কেবিন ক্রুদের সংগঠন কেবিন ক্রু অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সংগঠনের নির্বাচন হতে পারলে আমাদের সিবিএ নির্বাচনের বাধা কোথায়।’

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেলেন পরিচালক প্রশাসন

এদিকে গত রবিবার বিমানে প্রেষণে নিয়োজিত পরিচালক প্রশাসনকে সিআরপিসি অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আওতাধীন এলাকার নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমন করতে পারবেন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো আইন কার্যকর করতে পারবেন। একই সঙ্গে অস্থাবর সম্পত্তি হুকুমদখল আইনও কার্যকর করতে পারবেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে বিমানের স্থাবর সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এসব সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য পরিচালক প্রশাসনকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানে যেন শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ না হতে পারে, তা দমন করার জন্যও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিমানে বর্তমানে শুদ্ধি অভিযান চলছে। পাইলট নিয়োগসহ কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষার ফল বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে অনিয়মের কারণে। সৌজন্য টিকিট দেওয়ায় অনিয়ম করার জন্য বিমানের লন্ডন স্টেশন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিমানের ১০ কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের এ তালিকার বেশিরভাগই সিবিএ নেতা। মূলত বিমানের ওপর সরকারের যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা ধরে রাখার জন্যই পরিচালক প্রশাসনকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে।