দেবীদ্বারে মা-ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা|154315|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
দেবীদ্বারে মা-ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

দেবীদ্বারে মা-ছেলেসহ  তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মা-ছেলেসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে মোখলেছুর রহমান নামে এক রিকশাচালক। এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন দুই নারীসহ আরও পাঁচজন। পরে স্থানীয়রা পিটিয়ে হত্যা করেন মোখলেছুরকে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাঁধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোখলেছুর মাদকাসক্ত ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাঁধানগর গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে মোখলেছুর (৩৫) গতকাল সকাল ১০টার দিকে রিকশা চালিয়ে বাড়িতে এসে ধারালো লম্বা ছেনি নিয়ে বাইরে যায়। প্রথমে সে প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৪০) ও মা মাজেদা বেগমকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই নাজমার মৃত্যু হয়। পরে মোখলেছ একই বাড়ির প্রয়াত শাহ আলমের শিশুপুত্র আবু হানিফকে (১০) এলোপাতাড়ি

 কোপাতে থাকে। ওই সময় হানিফের মা আনোয়ারা বেগম আনু (৪০) ছেলেকে বাঁচাতে দৌড়ে গেলে ঘাতক মোখলেছ তাকেও কোপায়। মা ও ছেলের হত্যা নিশ্চিত করে মোখলেছ রক্তমাখা ধারালো ছেনি নিয়ে বাড়িতে ও রাস্তায় জাহানারা বেগমসহ আরও অন্তত দুজনকে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন ঘাতককে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে। তারা মারাত্মক আহত নুরুল ইসলাম, ফাহিমা, রাবেয়া বেগম, মাজেদা বেগম ও জাহানারা বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ মোখলেছুরের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও ভাবি মরিয়ম আক্তারকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 

নিহতের স্ত্রী রাবেয়া সাংবাদিকদের জানান, তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তার স্বামীর মাদকাসক্তি কিংবা মানসিক সমস্যা ছিল না। মাঝেমধ্যে তার মাথাব্যথা করত। সে নিয়মিত মাথাব্যথার ট্যাবলেট খেত। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে বিকেলে বাসায় ফিরলেও গতকাল সকালে বাসায় ফিরে ধারালো ছেনি নিয়ে বের হয়ে সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কুপিয়েছে। কিন্তু কী কারণে সে বাড়ির লোকজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তা তিনি (রাবেয়া) জানেন না।

ঘটনার খবর পেয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) সাখাওয়াত হোসেনসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম জানান, ঘাতক মাদকাসক্ত কিংবা তার মানসিক সমস্যা ছিলÑ এমন তথ্য তার জানা নেই। 

দেবীদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, ঘাতক এলোপাতাড়ি লোকজনকে কোপাতে থাকে। তারা ঘাতকসহ চারজনের মরদেহ পেয়েছেন। হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যুর গুজব থাকলেও বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন কারও মৃত্যু হয়নি। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হবে।