উপভোগের মন্ত্রে ফাইনাল খেলবে নিউজিল্যান্ড|154464|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
উপভোগের মন্ত্রে ফাইনাল খেলবে নিউজিল্যান্ড
ক্রীড়া ডেস্ক

উপভোগের মন্ত্রে ফাইনাল খেলবে নিউজিল্যান্ড

বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার একটা চাপ তো থাকে। মিথ্যে বলব না, আমাদের মাঝেও আছে। তবে আমরা এটা উপভোগ করছি। আর হোম অব ক্রিকেটে ফাইনাল খেলা। আমার তো মনে হয় এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। প্রতিপক্ষে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া যেই হোক না কেন, আমরা আমাদের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব

 

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুদিনের ৫০ ওভারের ইনিংসে কিউরা সর্বসাকল্যে তুলতে পেরেছিল ২৩৯ রান। ভারতের জয় তখন কেবল সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। ম্যাচ ঝুলেছিল ভারতের দিকেই। প্রায় ৮০ ভাগ। কিন্তু রবি শাস্ত্রীর ভাগ্যদেবতা এদিনও ভারতের ড্রেসিংরুমে ছিল না। তাই নিউজিল্যান্ড বোলার আর ফিল্ডারদের দৃঢ়তায় টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলা হলো না ভারতের।

খেলার মাঠে ঠা-া মাথার অধিকারী কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ব্যক্তিজীবনেও চাপহীন থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ও খেলার প্রথম দিন অপরাজিত রস টেইলরের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবতে ভাবতে। টেইলর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘ভোররাত ৩টায় আমার ঘুম ভেঙে যায়। এবং আমি ভাবতে থাকি সকালে গিয়ে আমি কীভাবে ব্যাটিং শুরু করব, কিংবা কী করা উচিত। এটা আসলে অদ্ভুত এক অনুভূতি। এটা অনেকটা টেস্ট ম্যাচের অনুভূতির মতো, আপনি আগের দিন অপরাজিত থেকে, পরের দিন সেখান থেকে শুরু করার মতো। উইলিয়ামসন আমার কয়েকটি রুম দূরে ছিল। কিন্তু সে এসব নিয়ে একদম চাপহীন। দারুণ ঘুমিয়েছে সে।’

দু’দলের অধিনায়কের ধারণা ছিল, যে দলই রান তাড়া করবে তারা অলআউট ক্রিকেট খেলবে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন কিউই অধিনায়ক। এছাড়া ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং ইউনিটকে এর আগে ভারতের মাটিতে ছোট টার্গেটে আটকে দিয়েছিল কিউইরা। সেই অভিজ্ঞতা তাদের সাহস জোগাচ্ছিল। উইলিয়ামসন তাই আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে বোল্ট আর হেনরি জাদুর অপেক্ষায় ছিলেন। আর তার প্রতিদান তারা দিলেন ৫ রানেই ৩ উইকেট শিকার করে। এবং এবারের আসরে পাওয়ার প্লে’তে সবচেয়ে কম রানে (২৪) ৪ উইকেট নিয়ে। অবশ্য অধিনায়ক কেন আর টেইলরের বিশ্বাস ছিল এই মাঠে এটাই দারুণ স্কোর। টেইলরের কণ্ঠে ফুটে ওঠে সে কথা, ‘আমি আর কেন কথা বলেছিলাম, আমাদের কাছে ২৪০ চ্যালেঞ্জিং স্কোর মনে হয়েছে। আমি জানি অনেকে আমাদের বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু আমরা এটা বিশ্বাস করেছিলাম। এটা আসলে সেøা উইকেট ছিল। যদি বৃষ্টি হতো তাহলে হয়তো ব্যাটসম্যানরা বাড়তি সুবিধা পেত।’

পেসাররা দারুণ শুরু এনে দেওয়ার পর ভারতের ভবিষ্যৎ কা-ারি পান্ত আর হার্দিক পান্ডিয়া হাল ধরে ফেলেছিলেন। তখনই বড় জুয়াটা খেললেন উইলিয়ামসন। দলের একমাত্র স্পিনার মিচেল স্যান্টনারকে আনলেন আক্রমণে। উইকেট সেøা হওয়াতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা স্বচ্ছন্দে খেলতে পারছিলেন না। তবে স্পিনার পেয়ে আক্রমণের চিন্তা করে ভুল করলেন দুই তরুণ, পান্ত ও পান্ডিয়া। দুজনই বলকে সীমানাছাড়া করতে গিয়ে নিজেরাই সীমানা ছেড়ে দিলেন। টেইলর অবশ্য বেশি কৃতিত্ব দিলেন পেসারদেরই, ‘বোল্ট আর হেনরি অসাধারণ এক শুরু এনে দিয়েছিল আমাদের। তারাই খেলার গতিপথ ঠিক করে দিয়েছিল।’ এদিকে অধিনায়ক উইলিয়ামসন অবশ্য প্রশংসায় ভাসিয়েছেন স্পিনার স্যান্টনারকে, ‘ও অসাধারণ বোলিং করেছে। উইকেট সেøা বোলারদের সাহায্য করছিল। স্যান্টনার প্রত্যাশামতো বোলিং করেছে।’

তবে এরপর শুরু হয় জাদেজার জাদু। সঞ্জয় মাঞ্জরেকরের কথার প্রতিশোধ নিতেই কি না তার আগে খেলা সাতজন ব্যাটসম্যানের চেয়ে দুর্দান্ত খেলছিলেন তিনি। জাদেজার ব্যাটিং অবাক চোখে দেখছিলেন কিউই অধিনায়ক। তবে কেন আশা করেছিলেন, হেনরি আর বোল্ট কিউইদের খেলায় ফিরিয়ে আনবে। তাই সøগ ওভারে তাদের ওপর ভরসা করে বল হাতে তুলে দেন। তার ফলাফলও পান হাতেনাতে। উইলিয়ামসন বলেন, ‘বোল্ট একজন ওয়ার্ল্ড ক্লাস খেলোয়াড়। শুরুতে নয়, ডেথ ওভারেও তার ওপর ভরসা করা যায়। আমি চেয়েছিলাম হেনরি আর বোল্ট যদি শেষদিকে রান চেক দিয়ে রানরেট বাড়িয়ে দিতে পারে তাহলে ব্যাটসম্যানদের ভুল করার সম্ভাবনা বাড়বে।’ বোল্ট ৪৮তম ওভারে জাদেজাকে তুলে নেওয়ার পরও ধোনির মাঠে থাকা ভয়ের কারণ ছিল কিউইদের জন্য। তবে গাপটিলের ব্রিলিয়ান্ট এক থ্রোতে জয়ের পাল্লা হেলে পড়ে কিউইদের দিকে। টেইলরের মতে, ধোনির আউটে মন ভেঙে যায় ভারতীয়দের, ‘ধোনির আউট ভারতীয়দের মন ভেঙে দিয়েছে। ধোনি এমন একজন খেলোয়াড়, ওই মুহূর্ত থেকে অসংখ্যবার ম্যাচ বের করে নিয়েছে দলের জন্য। যখন আমরা তার উইকেট পেলাম, তখনই আমরা জয়ের সুবাস পেয়ে গিয়েছিলাম।’

নিউজিল্যান্ড দল শুধু ব্যাটিং, বোলিং নয়, অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের সৌজন্যে ফাইনালে উঠেছে বলে মনে করেন টেইলর, ‘ধোনি আর জাদেজা খেলাটা প্রায় কেড়েই নিচ্ছিল। কিন্তু গাপটিলের ব্রিলিয়ান্সের কাছে ওরা হেরে গেছে। আসলে নিশামের ক্যাচ বা গাপটিলের ধোনিকে করা সেই রান আউট আগামী কয়েক বছর আমাদের স্মৃতির পাতায় অসাধারণ হয়ে থাকবে। এটা ভোলার নয়।’ গাপটিলের থ্রো নিয়ে উইলিয়ামসন বলেন, ‘পুরো মাঠে অমন থ্রো গাপটিলই করতে পারত। আর ঠিক সেটাই করেছে সে।’

টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড। তবে কোনোপ্রকার চাপ অনুভব করছে না নিউজিল্যান্ড। বরং লর্ডসের মাঠের ফাইনাল উপভোগ করবে কিউইরা বলে জানান টেইলর, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার একটা চাপ তো থাকে। মিথ্যে বলব না, আমাদের মাঝেও আছে। তবে আমরা এটা উপভোগ করছি। আর হোম অব ক্রিকেটে ফাইনাল খেলা। আমার তো মনে হয়, এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া যেই হোক না কেন, আমরা আমাদের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব।’