ধোনির ব্যাটিং অবাক করেছে|154467|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
ধোনির ব্যাটিং অবাক করেছে

ধোনির ব্যাটিং অবাক করেছে

এই বিশ্বকাপে মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং আমাকে সত্যিই অবাক করেছে। ধীরগতির ব্যাটিংয়ের পরও দেখা গেছে তাকে সমর্থন জানিয়ে গেছেন অনেকে। অনেকেই তাকে হিরো অবহিত করেছেন। ও অবশ্যই হিরো। তবে এবারের বিশ্বকাপ হিসেবে আনলে আমি তাকে হিরো মানতে নারাজ। ওকে দেখে মনে হয়েছে ও একটু দেরিতে ওর সহজাত ব্যাটিংটা শুরু করেছে। ফলে অন্যদের ওপর চাপ বেড়ে গেছে। ধোনি এরকম পরিস্থিতিতে ঠা-া মাথায় অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। ও বিশ্বের সেরা ফিনিশারদের একজন। কিন্তু এই বিশ্বকাপে ও যেন একটু বেশি সময় নিয়েছে সেট হতে। বুধবার যদি ও একটু আগে হাতে খুলে খেলত তাহলে রবীন্দ্র জাদেজাকে এতটা দায়িত্ব নিতে হতো না। জাদেজা আউটের পর একটু ধীরে খেলে টেলএন্ডারদের নিয়ে ম্যাচটা বের করে ফেলতে পারত ধোনি। তখন তাকে তাড়াহুড়ো করতে হতো না। পুরো বিশ্বকাপেই ও এমনটা করেছে। এমনকি যে ম্যাচটায় ভারত ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল সেই ম্যাচেও অনেক দেরি করে ফেলেছিল। বুধবার কী হলো। সেট হয়ে পরে উপায় না দেখে ডাবলস নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে চলে গেল। যেহেতু এরকম পরিস্থিতিতে ধোনি ভালো ব্যাট করার সামর্থ্য রাখে তাই ওর ধীরগতির ব্যাটিংটা একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে।

দ্বিতীয়ত আমি বাহবা দেব নিউজিল্যান্ডের লড়াকু মানসিকতাকে। ওরা যেভাবে বোলিং আর ফিল্ডিং করেছে বলতে গেলে অসাধারণ। ভারত হয়তো ভেবেছিল ২৪০ সহজেই তাড়া করে ফেলবে। নিউজিল্যান্ড কিন্তু ভালো বোলিং, সেই সঙ্গে দুর্দান্তফিল্ডিং করে সেটা হতে দেয়নি। উপমহাদেশের ব্যাটসম্যানরা সবসময় সুইং বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে, উইকেটে টিকে থাকার টেকনিক ব্যবহার না করে সব বল খেলে ফেলার প্রবণতা থাকে। বল ছাড়ার প্রবণতা থাকে না। যেটা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকাও খুব সাবলীলভাবে ভালো বল ছেড়ে দিতে পারে অথবা ডিফেন্স করতে পারে। নিউজিল্যান্ড সেই অস্ত্রটাই ব্যবহার করে ভারতের ব্যাটসম্যানদের ধরাশায়ী করেছে। কোহলি যে সুইং বলটায় আউট হয়েছে, সেটা ওর ভুল শট সিলেকশনের কারণেই হয়েছে। আরেকটা বিষয় আমার মনে হয়, সেটা হলো, পুরো বিশ্বকাপেই রোহিত শর্মা এত ভালো ব্যাটিং করেছে, যে কারণে মিডল অর্ডারকে সেভাবে পরীক্ষাই দিতে হয়নি। আগেই বলেছিলাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা জিততে পারে একমাত্র যদি ভারতের টপ অর্ডারকে দ্রুত ফেরাতে পারে। সেটাই হয়েছে। রোহিতসহ অন্যরাও পারেনি।

ভারতের হারের পর একটা বিষয় আমার খুবই খারাপ লাগছে। তা হলো তাদের হারে বাংলাদেশের কিছু মানুষের উচ্ছ্বাস। ভারত বিশ্ব ক্রিকেটে প্রাধান্য বিস্তার করে, বিশ্বকাপ নিয়ে অন্য দেশগুলোকে খাটো করে কিছু বিজ্ঞাপনের কারণে ভারতকে অপছন্দ করার লোকের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু তাই বলে অন্য একটি দেশের কাছে ভারতের হারে বাংলাদেশিদের বুনো আনন্দে মাতার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। ক্রিকেটের কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সৌহার্দ্যরে জায়গায় শত্রুতা কখনই কাম্য নয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র সাফল্য পেলে কিন্তু পাশের দেশগুলোর মধ্যেও একটা উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া আমাদের ক্রিকেটে এগিয়ে যাওয়ায় ভারতেরও কিছু অবদান আছে। সব বাদ দিন, আমাদের খেলোয়াড়রাই কোনো ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রয়োজন পড়লেই চলে যায় ভারতে। যাই হোক, আমার এক ভারতীয় বন্ধু আজ (বৃহস্পতিবার) বলছিলেন, আগে ভাবতাম ভারতের শত্রু কেবল পাকিস্তানই। কিন্তু এখন তো দেখছি ভারতের আরেকটি শত্রু দাঁড়িয়ে গেছে। এসব কথা খুবই বিব্রতকর। ওরা অন্য দলগুলোকে হেয় করে কিছু বিজ্ঞাপন বানিয়েছে, সেটা যেমন ভালো করেনি, তেমনই ওদের ব্যর্থতায় আমাদের এতটা উল্লসিত হওয়ারও কিছু দেখি না। বরং এটা মনে রাখুন আমাদের নিজেদের দল কিন্তু এই বিশ্বকাপে হয়েছে অষ্টম। আর ভারত সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা ভালো কথা নয়।