পরিষ্কার দাঁতেও রোগ|156712|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০১৯ ০৮:২৩
পরিষ্কার দাঁতেও রোগ
ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

পরিষ্কার দাঁতেও রোগ

দাঁতের গুরুত্ব আমরা বুঝতে পারছি বলে  মুখের যতেœ সচেতনতা বাড়ছে। ১০ থেকে ১২ বছর আগেও রোগীরা যেভাবে দাঁতে প্ল্যাক বা কালকুলাস নিয়ে আসত। সেই তুলনায় এখন বেশিরভাগ মানুষের মুখে তুলনামূলক সচেতনতার প্রমাণ মেলে। যারা নিয়মিত ও নিয়ম অনুযায়ী দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখে কিন্তু তারপরও দাঁত ও মুখের রোগ হয় তারা অনেক সময় না বুঝে চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। মুখ পরিষ্কারের পরও কেন দাঁতে গর্ত বা মাড়িতে রোগ হয় তার কিছু সাধারণ উদাহরণ :

 দাঁতের গঠনগত অস্বাভাবিকতা

জন্মগত কারণে কারও কারও দাঁতের গঠন প্রণালীতে অস্বাভাবিকতা থাকে, বিশেষ করে গর্ভকালীন অপুষ্টি, ক্যালসিয়ামের অভাব, প্রয়োজনীয় মিনারেলসের অভাব, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন ইত্যাদি নানা কারণে গর্ভের শিশুর দাঁতের গঠন  দুর্বল হতে পারে। আবার অনেকের আকৃতিগত সমস্যা থাকতে পারে, যেমন দাঁতের ওপরকার খাঁজগুলো খুব সরু আর গভীর থাকতে পারে যেখানে পরিষ্কার রাখা অসম্ভব। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়ে আগে থেকেই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে সচেষ্ট হতে হবে।

 অসম বা অস্বাভাবিক দাঁতের অবস্থান

অনেকের দাঁত ও চোয়ালের হাড়ের অনুপাত অসম, দুধ দাঁত নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে পড়ে যাওয়া বা বিভিন্ন কারণে দাঁত এলোমেলো থাকে। ফলে দাঁতের মধ্যকার অনেক লুকায়িত স্থান থাকে যেখানে সহজে ব্রাশ পৌঁছাতে পারে না। ফলে নানা রোগের সৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য অর্থোডন্টিক চিকিৎসার মাধ্যমে আঁকাবাঁকা দাঁত ঠিক করা জরুরি।

 নিঃসৃত লালার ধরন

স্বাভাবিক নিঃসৃত লালা আমাদের মুখকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। শারীরিক ও মানসিক নানা কারণ, অনেক ওষুধের পাশর্^ প্রতিক্রিয়া, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগী, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, কম তরল পান করা, লালা গ্রন্থির রোগ, শ্বাসকষ্টে ইনহেলার ব্যবহার প্রভৃতি নানা কারণে লালার প্রভাব কমে যেতে পারে। তখন মুখ শুষ্ক ও লালা ঘন হতে পারে। এমন অবস্থায় মুখের মধ্যে নানা রোগ বাসা বাঁধতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ নিশ্চিত হয়ে লালার প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত তরল পান, চিনিমুক্ত চুইংগাম, লালা গ্রন্থির ব্যায়ামসহ নানা কার্যকর উপায় বেছে নেওয়া যায়।

 খাদ্যাভ্যাস

যারা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার, আইসক্রিম, কোমল পানীয়, ধূমপান, পান জর্দা, ফাস্টফুডে বেশি আসক্ত, দাঁতের স্বাস্থ্যবান্ধব খাবার যেমন দেশীয় ফলমূল, দুধ, টকদই, পনির, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, শাক-সবজি, আঁশযুক্ত খাবার ইত্যাদিতে অনাগ্রহী তাদের দাঁতেও রোগ বাসা বাঁধতে পারে।

 শারীরিক অসুস্থতা

অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি, ডায়াবেটিস, লিভারের রোগ, রক্তের রোগ, অপুষ্টি, কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ নানা কারণে দাঁত ও মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 অভ্যাসজনিত কারণ

শক্ত টুথব্রাশ দিয়ে জোরো জোরে দাঁত ঘষা, ছাই কয়লা বা গুল ব্যবহার, দাঁত দিয়ে বোতলের কর্ক খোলা, সুতা কাটা, দাঁতে দাঁত ঘষার অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাস ইত্যাদি নানা কারণে দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আসলে মুখের অভ্যন্তরে অগণিত জীবাণু সবসময় সুযোগ খোঁজে অনুকূল পরিবেশের। আর তাই সঠিকভাবে এদের প্রতিহত করতে নিয়ম মেনে মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি। পাশাপাশি ছয় মাস অন্তর অনুমোদিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সহজেই মুখ গহ্বরকে স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব। ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান

রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, ধানমণ্ডি-১৩

সদস্য সচিব, বিএফডিএস

০১৯১১৩৮৭২৯১