সুইমিংপুলে নাটক|156883|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০
সুইমিংপুলে নাটক
ক্রীড়া ডেস্ক

সুইমিংপুলে নাটক

তখন বয়স মাত্র ১৬। ২০০৮ সালের অলিম্পিকে অংশ নিয়ে সুন ইয়াং ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে হয়েছিলেন ২৮তম। চার বছর পর লন্ডনে সেই সুন প্রথম চীনা পুরুষ সাঁতারু হিসেবে দেশকে এনে দেন অলিম্পিক স্বর্ণপদক। জেতেন ৪০০ ও ১৫০০ মিটারের ফ্রিস্টাইল। ২০১৩-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়ার গ্রান্ট হ্যাকেটের পর এক বিশ্ব আসরে প্রথম সাঁতারু হিসেবে জেতেন ৪০০, ৮০০ ও ১৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের স্বর্ণ। ৩টি অলিম্পিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং ১০ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের স্বর্ণ সুনকে এনে দিয়েছে চীনের সর্বকালের সেরা সাঁতারুর মর্যাদা। অনেকেই তাকে ফ্রিস্টাইল সাঁতারের সর্বকালের সেরার মর্যাদাও দিয়ে থাকেন।

সুনের সেই শ্রেষ্ঠত্বে ভাটা পড়ে ২০১৬-এর রিও অলিম্পিকে। ২০০ মিটার জিতলেও গ্রান্ট হ্যাকেটের উত্তরসূরি ম্যাক হরটনের কাছে ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের শ্রেষ্ঠত্ব হারান। সেখান থেকেই লড়াই দুজনেরÑ সুন বনাম হরটন। এই লড়াই পুলের বাইরে গিয়েছে সুনের ড্রাগ কেলেঙ্কারির কারণে। ২০১৪ সালে নিষিদ্ধ ট্রিমেটাজিডিন নামের স্টিমুল্যান্ট নেওয়ার অপরাধে নিজ দেশের সুইমিং সংস্থাই তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে সুনকে। তখন তিনি বলেছিলেন, ২০০৮ সাল থেকেই হার্ট ধড়ফড়ানির চিকিৎসার জন্য এই ওষুধ নিয়ে আসছেন। জানতেন না এটা নিষিদ্ধ।

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়ানজুতে বসেছে ১৮তম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে রবিবার ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে রিওতে হারানো স্বর্ণ হরটনের কাছ থেকেই পুনরুদ্ধার করেছেন সুন ইয়াং। ২০১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতোই হয়েছে ফলাফল। ৩ মিনিট ৪২.৪৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হন সুন। ৩ মিনিট ৪৩.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে হরটনকে হতে হয় দ্বিতীয়। ইতালির গ্যাব্রিয়েল দেত্তি হন তৃতীয়। ৪০০ মিটারে চতুর্থ বিশ্ব শিরোপা জেতার পর সুনের উদযাপনটা ছিল দেখার মতো। ফিনিশিংয়ে পৌঁছানোর পর পুলের পানি ছিটিয়ে হুংকার দেন তিনি। কিছুক্ষণ লেন ডিভাইডার দড়ির ওপর বসে থাকেন। পুল থেকে উঠে ‘সুন সুন’ চিৎকার করতে থাকা ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি। কানে হেডফোন আর চোখে রোদ চশমা লাগিয়ে চলে যান পুল ছেড়ে। কিন্তু নাটক হয় পরে। পদক বিতরণীতে স্বর্ণজয়ী সুনের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান হরটন। এমনকি রুপার জন্য পোডিয়ামেও ওঠেননি তিনি। ব্যাপারটা ভালো লাগেনি সুনের। ‘আমাকে সবাই পছন্দ করবে এমন নয়, আমি এসব নিয়ে ভাবি না’Ñ বলেন ২৭ বছর বয়সী সুন। যোগ করেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কেউ আমাকে পছন্দ না-ই করতে পারে, কিছু আসে যায় না। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী তো আনুষ্ঠানিকতা। আপনাকে তো আমার দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।’

অনেক বছর ধরেই সুনকে ‘প্রতারক’ বলে আসছেন হরটন। গত বছর একটি প্রতিযোগিতা শুরুর আগেও নাকি অ্যান্টি-ডোপিং কর্মকর্তাদের কাছে মূত্র নমুনা দিতে অস্বীকার করেছেন সুন। এমনকি নমুনা নিতে আসা সরঞ্জাম গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এই অভিযোগের তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন চীনের সর্বকালের সেরা সাঁতারু।

এদিকে পোডিয়ামে না ওঠার জন্য শাস্তি পেতে হতে পারে হরটনকে। তবে একজন ড্রাগ প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেক সাবেক সাঁতারু।