নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি|157455|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ জুলাই, ২০১৯ ১৭:০৭
নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

ফাইল ফটো

নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারী ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এর আগে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে গত বুধবার রাতে নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ওই পয়েন্টে নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত বুধবার সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এরপর বেলা ১২টায় বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও বিকেল তিনটায় ৩৫ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ছয়টায় ৪২ সেন্টিমিটার ও রাত নয়টায় ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের হাইডোলজী বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ.এস.এম আমিনুল রশীদ জানান, ‘গত ১১ জুলাই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ১৩ জুলাই  অতীতের সকল রেকর্ড ব্রেক করে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তাপাড়ে প্রথম দফার বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এরপর ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিপৎসীমা বরাবরে পানি প্রবাহিত হয়ে ১৬ জুলাই বিপৎসীমার নিচে নামে। ২২ জুলাই আবারও পানি বেড়ে বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হয়ে ২৩ জুলাই বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচে নামে।

গত বুধবার সকাল থেকে আবারও পানি বাড়তে থাকলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও শৌলমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেষ্টিত প্রায় ১৫ টি গ্রামের ১৫ সহস্রাধিক মানুষ দ্বিতীয় দফায় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রথম দফার বন্যার জের শেষ হতে না হতেই দ্বিতীয় দফায় আমার ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্বছাতনাই গ্রামের নয় শত পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি এসব মানুষের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের ঢলে গত বুধবার রাত নয়টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বৃহস্পতিবার পানি কমে বেলা ১২ টায় বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) গেট খুলে রেখে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।