গর্ভধারণ যখন ঝুঁকিপূর্ণ|162592|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ০৮:৪১
গর্ভধারণ যখন ঝুঁকিপূর্ণ
ডা. আতিকা সুলতানা

গর্ভধারণ যখন ঝুঁকিপূর্ণ

মা হওয়া একজন নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দদায়ক সিদ্ধান্ত। কিন্তু মা হওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে মা হওয়ার জন্য আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ কি না। আপনাকে জানতে হবে কী কী কারণে আপনার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ চিহ্নিত করতে পারলে প্রতিকারও করতে পারবেন।

ডায়াবেটিস : গর্ভধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিশ্চিন্ত হয়ে নিতে হবে আপনার ডায়াবেটিস আছে কি না। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের অন্যতম কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকে চিহ্নিত করা হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের সন্তান অস্বাভাবিক অবস্থায় জন্মগ্রহণ করতে পারে। আবার অনেক সময় সন্তান পেটে পানি জমে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। তাই যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে আগে আপনাকে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং গর্ভধারণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। যদি গর্ভধারণের পর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

এ ছাড়া নিশ্চিত করতে হবে আপনার সন্তান এমন কোনো হসপিটাল বা ক্লিনিকে জন্মগ্রহণ করবে যেখানে ভালো অবসটেটিশিয়ান, অ্যানেসথেটিস, নিউনেটোলজিস্ট-সহ সব ধরনের উন্নত সুযোগ সুবিধা থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্তচাপের জন্য বাচ্চার ওজন কম হতে পারে, বাচ্চা অপরিণত হতে পারে। এমনকি মায়ের আগে থেকে রক্তপাত শুরু হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। শুধু তাই নয় উচ্চ রক্তচাপ মায়ের হার্ট, চোখ ও কিডনির জন্য ক্ষতিকারক। সন্তান নিতে ইচ্ছুক হলে আগে চিকিৎসকের কাছে যান, চেকআপ করিয়ে নিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনুন।

অনেক সময় গর্ভাবস্থায় বেশির ভাগ মায়েরাই উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন সেক্ষেত্রে নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিউট্রিয়াস ডায়েট গ্রহণ করা ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

অতিরিক্ত ওজন : আপনার গর্ভাবস্থার আরও একটি অন্তরায় হতে পারে অতিরিক্ত ওজন। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের তালিকায় মাত্রাতিরিক্ত ওজন বড় একটা বিষয়। আপনি যদি অধিক ওজনের অধিকারী হন তাহলে সন্তান নেওয়ার আগে ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে। গর্ভকালীন ‘বিএমআই’ বা বডি ম্যাস ইনডেক্সের পরিমাণ ৩০ কেজি/মিটার স্কোয়ার বা তার বেশি হলে গর্ভবতী মা এবং তার সন্তানের গর্ভাবস্থায় ও জন্মের ঠিক পরপরই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

কিডনিতে সমস্যা : কিডনি রোগে আক্রান্ত নারীদের গর্ভধারণ খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। আপনি যদি সিদ্ধান্ত নেন যে সন্তান নেবেন তাহলে সবার আগে নিজের শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন কী করবেন আর কীভাবে নিজের অনাগত সন্তানের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেই গর্ভধারণ করতে পারেন। কিডনিতে সমস্যা থাকলে গর্ভকালীন আপনি সবচেয়ে বেশি যেটার ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন সেটা হলো গর্ভপাতের আশঙ্কা।

একটা ব্যাপার ঘটে সেটা হলো কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকলে আপনার ঘন ঘন ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই উচিত হবে যতটা সম্ভব আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা।

এইচআইভি : আপনি যদি এইচআইভি পজেটিভ হন তাহলে আরেকবার ভাবুন আপনি সত্যিই গর্ভধারণ করতে চান কি না। এইচআইভির জীবাণু যদি আপনার শরীরে থাকে তাহলে আস্তে আস্তে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে থাকবে। যেখানে আপনি নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে সেখানে কী আপনি আরেকটি নতুন প্রাণের রক্ষা বা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন?

এরপরেও যদি চান আপনি গর্ভধারণ করবেন তাহলে বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কারণ কিছুটা হলেও আশার কথা হলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইচআইভি পজেটিভ নারীর গর্ভের ভ্রুণের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব, যদিও সেটা খুব কম সংখ্যক।

ডা. আতিকা সুলতানা

এমবিবিএস (ডিইউ) ডিএমইউ

(আল্ট্রাসাউন্ড) পিজিটি

গাইনি অ্যান্ড অবস