সরকারি কলেজে ‘বেসরকারি’ বেতন|166849|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
সরকারি কলেজে ‘বেসরকারি’ বেতন
আহসান হাবীব অপু, রাজশাহী

সরকারি কলেজে ‘বেসরকারি’ বেতন

রাজশাহী মহানগরীর দুটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সরকারি হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বেতন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকরা বলেছেন, সরকারি স্কুল বা কলেজে পড়েও যদি বেসরকারির নিয়মে বেতন-ভাতা দিতে হয়, তাতে শিক্ষার্থীদের লাভ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ঘোষণা হলেও এখনো শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে না। এ কারণে শিক্ষার্থীদেরও বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর রাজশাহী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের ১২টি বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। এই ১২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী শহরের দুটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম এখন সরকারি হিসেবেই চলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষার্থী ভর্তির চাপ বেড়ে গেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের খরচ কমেনি। এখনো নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বেতনসহ অন্যান্য খরচ।

রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক  মাসুদ রানা জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ঘোষণা হওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থীর যে বেতন নেওয়া হতো, সরকারি ঘোষণা হওয়ার পরও তা-ই আছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত টিফিন না দিয়েই প্রতি মাসে টিফিন বাবদ ৭৫ টাকা, কম্পিউটার ল্যাব খরচ ২০ এবং অজ্ঞাত অত্যাবশ্যকীয় ব্যয়ের নামে ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এসব খরচের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফারুক হোসেন বলেন, ‘সরকারি হিসেবে কার্যকর হওয়ার পরও বেসরকারির ফি আদায় করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে শিক্ষকরা এখনো সরকারি সুযোগ পাননি। মূলত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা হয় শিক্ষার্থীদের টাকায়। তাদের সরকারি বেতন চালু হলে শিক্ষার্থীদের থেকে আর বাড়তি ফি নেওয়া হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষকদের যদি এরিয়ারসহ ঘোষণার দিন থেকে বেতন দেওয়া হয়, তখন কি তারা ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি টাকা ফেরত দেবেন?’

রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ একবার হোসাইন জানান, তার স্কুল এখন সরকারি হলেও শিক্ষক সরকারিকরণ হয়নি। এ কারণে আগের মতোই ফি নেওয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধার্যকৃত টাকা থেকে কম নেওয়ার সুযোগ নেই।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাইফুর রহমান বলেন, ‘ছাত্ররা ভুক্তভোগী হচ্ছে ঠিক। কিন্তু আমাদের যে প্রজ্ঞাপন হয়েছে তাতে বলা আছে আগের নিয়মে চলবে। এজন্য সেটাই করছি।’

মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে সরকারিকরণ করা হলেও সেখানে শিক্ষক পদ সৃষ্টি হয়নি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বেতন বেশি নেয়, তবে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।’