৩৩ মাস পেছনে ফিরল সূচক|167066|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০
৩৩ মাস পেছনে ফিরল সূচক
নিজস্ব প্রতিবেদক

৩৩ মাস পেছনে ফিরল সূচক

বিদেশিদের পাশাপাশি এবার শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজ থেকেও শেয়ার বিক্রির চাপ আসছে। আর এতেই বেসামাল হয়ে পড়েছে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮১ শতাংশের দর কমে গেছে। এর মধ্যে বাজার মূলধনে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর দর কমে যাওয়ায় স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক কমে গেছে প্রায় ৭৬ পয়েন্টে। এতে ডিএসইএক্স সূচকটি নেমে এসেছে ৩৩ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে।

তবে লভ্যাংশের মৌসুমে হঠাৎ এই বড় দরপতনের কারণ জানাতে পারেননি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তারা। যদিও বড় দরপতন সামাল দিতে এসইসির তৎপরতা অব্যাহত ছিল। কমিশন বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকও করে। শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে ফোন করে শেয়ার কেনার অনুরোধও জানানো হয় এসইসি থেকে। যদিও শেষ পর্যন্ত এসইসির অনুরোধে সাড়া মেলেনি। এমনকি সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশও (আইসিবি) বাজারকে সাপোর্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিক্রির চাপ সামাল দিতে না পারায় গতকাল বড় ধস নেমেছে। এতে ডিএসইর মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৫ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে ৫৯৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। 

নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গতকাল শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজগুলো থেকে বিক্রির চাপ অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি ছিল। গত দুই দিনের পতনে এসব ব্রোকারেজ হাউজের ভূমিকাই মুখ্য ছিল। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিক্রির চাপ আসা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির সাবসিডিয়ারি আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ শেয়ার কেনা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। গত দুই কার্যদিবসে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজ লংকাবাংলা সিকিউরিটিজেও নিট বিক্রি বেশি ছিল। এ ছাড়া গতকাল ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকার্স, ইবিএল সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, সিটি ব্রোকারেজ, ফিনিক্স সিকিউরিটিজ ও  ইউনাইটেড ফিনান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি থেকে সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপ আসে। এর মধ্যে ফিনিক্স সিকিউরিটিজের মোট লেনদেনের প্রায় ৭৮ শতাংশ আসে শেয়ার বিক্রি থেকে। লংকাবাংলার নিট বিক্রি ছিল প্রায় কোটি টাকা। প্রায় একই পরিমাণে নিট বিক্রি ছিল ইবিএল সিকিউরিটিজের।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার পাশাপাশি বর্তমানে তারল্য সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। নগদ অর্থ না থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে না। একই কারণে আগের ঋণ সমন্বয় করেও ব্রোকারেজ হাউজগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে না। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা কমেছে।

এদিকে বড় দরপতনের দিনেও ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫০২ কোটি টাকা, যা গত এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে করে অনেকেই সন্দেহ করছেন, কম দরে শেয়ার কেনার জন্য জোটবদ্ধ হয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান দরপতনে ভূমিকা রাখছে। বাজারের উত্থান-পতনে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীদের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রায় দুই মাস আগে একটি তদন্ত কমিটিও করে এসইসি। সম্প্রতি ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়লেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো নিতে পারেনি কমিশন।

বাজারের দরপতনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একাধিক ব্রোকার বর্তমান কমিশনকেই দায়ী করছেন। তাদের মতে, দুর্বল কোম্পানির আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) ও প্রাইভেট প্লেসমেন্ট বাণিজ্য পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। বর্তমান কমিশনের আমলে অপরিচিত ও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ করে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিগুলো আইপিও, আর্থিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান করলেও তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান কমিশন। 

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ১০ দশমিক ৫ শতাংশের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে। আর প্রায় ৮ শতাংশের দর ছিল অপরিবর্তিত। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেসব শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ রয়েছে, সেসব শেয়ারের দর গতকাল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল টিউবস, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, জেমিনি সীফুড, মুন্নু স্টাফলার্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, বিকন ফার্মা, সোনালী আঁশ, জেএমআই সিরিঞ্জ, আরামিট ও স্টাইল ক্রাফট।