ফারক্কা খুলে দেওয়ায় দুটি খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হচ্ছে এ অদম্য ছাত্রীকে|171959|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:২৪
ফারক্কা খুলে দেওয়ায় দুটি খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হচ্ছে এ অদম্য ছাত্রীকে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ফারক্কা খুলে দেওয়ায় দুটি খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হচ্ছে এ অদম্য ছাত্রীকে

খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে-আসতে হয় তসলিমাকে। ছবি দেশ রূপান্তর।

সম্প্রতি ভারত ফারাক্কা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় পানি বেড়ে যায় পদ্মা ও মহানন্দা নদীর। এই মহানন্দার দুটি খাল পানিতে ভরে যায়। সেই খাল সাঁতরে স্কুলে যায় মেয়েটি। 

তার নাম তসলিমা খাতুন। সপ্তম শ্রেণির এই ছাত্রীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর অনুপনগরে।

তসলিমাদের সংসারে আট ভাই-বোন। তার গ্রামে বিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বাল্যবিয়ের প্রবণতা বেশি, সেই গ্রামের মেয়ে ১৪ বছর বয়সী তসলিমা।

তার বাড়ি থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে স্কুল। তাপ্রতিদিন আসা-যাওয়ায় তাকে পাঁচ কিলোমিটার চলাচল করতে হয়। পুরো পথ তাকে হাঁটতে ও সাঁতার কাটতে হয়। কিন্তু, এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই তসলিমার।

তসলিমা জানায়, বাবা মারা যাওয়ায় আমার বড় ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু, তার আয়ও খুব বেশি না। তার তিন বোনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে গেলেও তার ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে। 

তসলিমা বলে, আমরা গরিব। নিজেরে শিক্ষিত করতে পড়ালেখা করতে চাই। পড়া শেষ করে যাতে চাকরি পাই।

তসলিমার বোন নাসিমা খাতুন বলেন, আমরা সবাই চাই তসলিমা লেখাপড়া করুক। পড়ালেখা করে সে যেনো তার জীবনে সফল হতে পারে।

অনুপনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মাহতাবউদ্দিন বলেন, তসলিমাকে কোনোদিন ক্লাস মিস করতে দেখিনি। সম্প্রতি খালগুলো পানিতে ভরে গেলেও সে স্কুল ফাঁকি দেয়নি।