সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৬৩%|173061|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০
সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৬৩%
নিজস্ব প্রতিবেদক

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৬৩%

কড়াকড়ি আরোপ ও করছাড়ের সুবিধা হ্রাস করায় সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের প্রতি ঝোঁক কমে গেছে। এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমে গেছে প্রায় ৬২ শতাংশ। তবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের ধারের পরিমাণ কমলেও বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘরের মাধ্যমে সরকার মোট ৫ হাজার ২১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে। এর মধ্যে সুদ ও আসল বাবদ ৩ হাজার ৭১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করে। এতে আগস্টে সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৯৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

সরকার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক শূন্য ৪ ও ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ সুদ দিয়ে থাকে। অপরদিকে কিছু ব্যাংক আমানতের বিপরীতে মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ সুদহারের প্রস্তাব দিচ্ছে। বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন মেয়াদের স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ৬ থেকে ৮ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকার পরও সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের তালিকা তৈরির কারণেই বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা। আগে ডাটাবেজ না থাকায় একই ব্যক্তি বেঁধে দেওয়া সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারতেন। এছাড়া ৫০ হাজার টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে চেকের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক হওয়ার কারণেও বিক্রি কমে গেছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে করছাড়ের সুবিধা সংকুচিত করে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। যদিও সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৫ শতাংশ করহার বহাল রাখা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার কোটি টাকা ধার্য করেছে। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে মোট ৬৪ হাজার ৩৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে সরকার। এর মধ্য থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদ ও আসল বাবদ ৩৭ হাজার ৩৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) ১১ হাজার ৩০৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা থেকে ৭ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকার সুদ-আসল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৪৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকার ঋণ নেয়, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে গত কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের ঋণগ্রহণের পরিমাণ বাড়তে দেখা গেছে। ২০১১-১২ অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের আগস্ট শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাওয়ায় বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে ব্যাংকঋণের প্রতি সরকারের ঝোঁক বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হওয়া ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম ৮৬ দিন অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে সরকার উল্টো ৮৫১ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ পরিশোধ করেছিল।