জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না নেওয়ার ঘোষণা দিলেন মোশাররফ করিম|179547|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩৪
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না নেওয়ার ঘোষণা দিলেন মোশাররফ করিম
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না নেওয়ার ঘোষণা দিলেন মোশাররফ করিম

৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে মোশাররফ করিম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না নেওয়ার ঘোষণা দেন।

মোশাররফ করিম। নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ে মুগ্ধতা ছড়ানো এই অভিনেতার যাত্রা শুরু হয়েছিল মঞ্চ নাটকে কাজ করার মধ্য দিয়ে। টিভি নাটকের এই জনপ্রিয় মুখ প্রথমবারের মতো ভূষিত হলেন কোনো রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে। ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ২০১৮ সালের সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেছেন। তার এই স্বীকৃতি ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। তবে মোশাররফ করিমকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে নির্বাচন করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছেন অনেকে। মোশাররফ করিমকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত করায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

এদিকে মোশাররফ করিম নিজেও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত। ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না নেওয়ার ঘোষণা দেন।

মোশাররফ করিম বলেন, ‘সকলের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গত ৭ নভেম্বর দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় আমি নিজের নামও দেখতে পেয়েছি। নুর ইমরান মিঠু পরিচালিত 'কমলা রকেট' চলচ্চিত্রের জন্য আমাকে ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্রে’ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

ধন্যবাদ সংশ্লিষ্টদের।

কিন্তু এই পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে আমার কিছু কথা রয়েছে। তার আগে সবাইকে অবগত করতে চাই, কৌতুকপূর্ণ বা কমেডি চরিত্র আমার কাছে অন্য সব চরিত্রের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু 'কমলা রকেট' চলচ্চিত্রে আমি যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি সেটি কোনোভাবেই কমেডি বা কৌতুক চরিত্র নয়। ছবিটির চিত্রনাট্যকার, পরিচালকসহ সহশিল্পীরা নিশ্চয় অবগত আছেন। একই সঙ্গে যারা ছবিটি দেখেছেন তারাও নিশ্চয় উপলব্ধি করেছেন 'কমলা রকেট' এ আমার অভিনয় করা ‘মফিজুর’ চরিত্রটি কোনো কৌতুক চরিত্র নয়। এটি প্রধান চরিত্রগুলির একটি।

তাই, সম্মানিত জুরি বোর্ডের কাছে আমার অনুরোধ, 'শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্রে' আমার জন্য বরাদ্দ করা পুরস্কারটা প্রত্যাহার করে নিলে ভালো হয়। না হলে আমার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

আমি কাজটাকে ভালোবেসে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। আমার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সকলের কাছে আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া চাই। একই সঙ্গে যারা পুরস্কার পেয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই।

মোশাররফ করিম

অভিনেতা

লক্ষণীয়: এই মুহূর্তে আমি ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছি। তাই লিখিতভাবে সবাইকে জানানো হলো। আশা করছি পরিস্থিতিটি বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মোশাররফ করিম ১৯৭১ সালের ২২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি বরিশালে। ১৯৯৯ সালে এক পর্বের নাটক ‘অতিথি’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ছোট পর্দায় প্রথম আগমন করেন। এই নাটকটি ফেরদৌস হাসান পরিচালনা করেন এবং এটি চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয়। নাটকে তার সত্যিকার পথচলা শুরু হয় ২০০৪ সাল থেকে। ২০০৪ সালে তিনি দুটি নাটকে অভিনয় করেন, যা অভিনয়জগতে তাকে এক অধ্যবসায়ী চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি বিখ্যাত টেলিফিল্ম ‘ক্যারাম’-এ তিশার বিপরীতে অভিনয় করেন। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন নাটক এবং মেগা-ধারাবাহিকে অভিনয় শুরু করেন। ২০০৮ সালে দেয়াল আলমারি, ২০০৯ সালে হাউসফুল, ২০১১ সালে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই, ২০১২ সালে জর্দ্দা জামাল, ২০১৩ সালে সেই রকম চা খোর, সিকান্দার বক্স এখন বিরাট মডেল, ২০১৪ সালে সেই রকম পান খোর এবং ২০১৫ সালে সিকান্দার বক্স এখন নিজ গ্রামে নাটকে অভিনয়ের জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ পুরুষ টিভি অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেন।

মোশাররফ করিম অভিনীত প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘জয়যাত্রা’। পরে তিনি রূপকথার গল্প (২০০৬), দারুচিনি দ্বীপ (২০০৭), থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার (২০০৯), প্রজাপতি (২০১১), টেলিভিশন (২০১৩), জালালের গল্প (২০১৫), অজ্ঞাতনামা (২০১৬), হালদা (২০১৭) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৫ সালে তিনি পর্তুগালের আভাঙ্কা চলচ্চিত্র উৎসবের ১৯তম আসরে ‘জালালের গল্প’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পুরস্কৃত হন।