বর্ণিল চরিত্রের অধিকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভবত এ জন্যই তিনি প্রশাসনে একঝাঁক বিচিত্র মানুষ ভেড়াতে পেরেছেন, যারা সব সময় তার স্বার্থ দেখবেন। কিন্তু প্রশাসনে এদের গুণ্ডাগিরিতে ট্রাম্পই বারবার বিপাকে পড়ছেন। ইতিমধ্যে সবচেয়ে পুরনো গণতান্ত্রিক দেশটির নেতাদের ছাড়িয়ে ট্রাম্প ভূরাজনৈতিক আদর্শে স্বৈরতান্ত্রিক কিম জং উন, রদ্রিগো দুর্তাতে, মোহাম্মদ বিন সালমান, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও ভøাদিমির পুতিনকে টেক্কা দিয়েছেন। শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে নিজেকে সেরা ও আপসহীন করতে গিয়ে একের পর এক বিপদ ডেকে আনছেন। রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগ আসার পরেও ভারসাম্য তত্ত্ব আওড়িয়ে ট্রাম্প সাংবিধানিক মূল্যবোধকে পায়ে মাড়াচ্ছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তেডেমোক্র্যাটরা। যদিও শুরু থেকেই বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে তার আইনজীবী প্যাট সিপোলোনি ডেমোক্র্যাটদের কাছে চিঠি দেন, যাতে অভিশংসন তদন্ত বেআইনি এবং হোয়াইট হাউস সহায়তা করবে না জানানো হয়।
দেশটির বেশির ভাগ আইন বিশেষজ্ঞ ‘রাজনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে চিঠি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সিনেটর মার্কো রুবিওর সাবেক আইনজীবী ও ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গ্রেগ নুনজিয়াটা বলেন, ২০১৭ সালেও সরকারের নৈতিক বিভাগের প্রধান ওয়ালটার শায়াব প্রশাসনিক দুর্বলতাকে ‘রাজা হিসেবে ট্রাম্পের ভুল’ বলেছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্নগুলো সব সময় তার অন্তরঙ্গ বন্ধুদের অক্ষমতায় ব্যর্থ হচ্ছে। এরপরও মেধাবী বাছাইয়ে তা তীক্ষè চোখ ইউক্রেন কেলেঙ্কারিতে আরেকবার সামনে এসেছে।
অর্থ তছরুপের ঘটনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আটকের সময় ট্রাম্পের ইশারায় কাজ করা দুই ব্যবসায়ী লেভ প্রানাস ও ইগোর ফ্রুম্যান দেশ ছাড়ার সময় সম্প্রতি বিমানবন্দরে আটক হন। সোভিয়েতে জন্ম নিলেও পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জিলিয়ানির সঙ্গে কাজ করেন। রুডি ট্রাম্পের আগামী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে আছেন।
দুই ব্যবসায়ী ছাড়াও রুডির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত মেরি ইয়োভানোভিচের, যিনি স্পষ্টভাবেই ট্রাম্পবিরোধী। তাকে বরখাস্ত করতে ভূমিকা রাখেন ২০১৮ সালে টেক্সাসে পরাজিত রিপাবলিকান পেতে সেশন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে চিঠি লিখেছিলেন। এরপরও ট্রাম্প নিজেই মেরি ইয়োভানোভিচকে কাছে টেনেছেন।
বিমানবন্দরে প্রানাস ও ফ্রুম্যান আটক হলেও সম্প্রতি হোয়াইট হাউসসংলগ্ন ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে রুডির সঙ্গে তাদের দেখা গেছে। অবশ্য তিনজনের মধ্যকার সম্পর্ক এখনো অস্পষ্ট। তবে একাধিক পত্রিকায় রুডির ২০১৭ সালের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে নিয়ে বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করেছেন।
অভিশংসন ইস্যুতে ট্রাম্পকে রুডি ছাড়াও সাবেক দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান নন ট্রে গৌতি, বর্তমান আইনজীবী ভিক্টোরিয়া টোয়েনসিং, চীনা নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল পিলসবারি ট্রাম্পকে বিপাকে ফেলেছেন। অথচ তাদের প্রত্যেককেই ট্রাম্প পছন্দ করেছিলেন প্রশাসনে ‘গুণ্ডাগিরি’ করার জন্য। নানা অভিযোগের মধ্যে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, রুডি এখনো প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন, এটি তার জানা নেই। এ নিয়ে কিছু বলারও নেই ট্রাম্পের।