বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইউয়ানের দরপতনের নেপথ্যে

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিবিসি বলছে, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর ইউয়ানের এমন দরপতন আর দেখা যায়নি। ইউয়ানের পতন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ ইউয়ানের পতনের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, রফতানি বাড়ানোর জন্য মুদ্রার মানের পতন ঘটিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগ অস্বীকার করে দেশটি জানায়, ইউয়ানের মান স্থিতিশীল রাখতে তারা সচেষ্ট।

বিবিসি জানায়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার নিয়মে ইউয়ানে লেনদেন হয় না। স্বাধীনভাবে ইউয়ান নিয়ে ব্যবসা করা যায় না। প্রতিদিন চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এনিয়ে কিছু নির্দেশনা দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী চলে ইউয়ানের লেনদেন।

এর আগে ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দার সময় প্রতি ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ৭-এ নেমেছিল। গত মাসে আবারও ইউয়ানের মান ৭-এ নেমেছে। এ দরপতনকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের জুলিয়ান ইভান্স-প্রিটচার্ডসহ অন্যরা বলছেন, আর কয়েক মাসের মধ্যেই চীনা মুদ্রা চাপে পড়বে।

image

চীনের প্রবৃদ্ধি কমছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউয়ানের দুর্বলতার একটি কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নিয়মিত সুদের হার বাড়াচ্ছে। বিপরীতে চীনের অর্থনীতির গতি মন্থর হচ্ছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চীনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ, যা ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে কম।

বাণিজ্য যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে চীনের অর্থনীতি ও ইউয়ানের মান অবনমনে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ করেন। এরপর থেকে ইউয়ানের মান নিম্নমুখী। তবে ইউয়ানের দুর্বল অবস্থান চীনের রফতানি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বেইজিংয়ের সংকট

ইউয়ানের দরপতন অব্যাহত থাকলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রোধের মুখে পড়তে পারে চীন। এতে বাণিজ্যযুদ্ধ আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, চলতি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনায় বসবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। কিন্তু ইউয়ানের মান আরো কমলে পরিস্থিতি চীনের প্রতিকূলে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং কর্তৃপক্ষের এখন আর উপায় নেই। চীনের সব রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা কার্যকর হলে ইউয়ানের মান কমতে থাকবে। চীনের প্রবৃদ্ধি শ্লথ থাকলে তা হুমকি হয়ে উঠবে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য। আর এ পরিস্থিতি যে কোনো মূল্যে এড়াতে চায় চীন সরকার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত